ঢাকা, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

ডিসিসিআই ও চীনা চেম্বারের নতুন সমঝোতা স্বাক্ষর

২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১৭:৫২:৪৬

ডিসিসিআই ও চীনা চেম্বারের নতুন সমঝোতা স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও চীনের উদ্যোক্তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার ও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং চীনের তিনটি শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) চীনের গুয়াংডংয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।

চুক্তিতে অংশ নেয় চীনের গুয়াংডং চেম্বার অব কমার্স অফ ইমপোর্টার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স (জিডিসিসিআইই), চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অফ মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স প্রোডাক্টস (সিসিসিএমই) এবং গুয়াংজু চেম্বার অব কমার্স ফর আউটবাউন্ড বিজনেস। ডিসিসিআইয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী এবং সংশ্লিষ্ট চীনা চেম্বারগুলোর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা।

একই সফরের অংশ হিসেবে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল চায়না ফরেন ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত ১৩৯তম ক্যান্টন ফেয়ারের ‘ট্রেড ব্রিজ বাংলাদেশ ম্যাচমেকিং ইভেন্ট’-এ অংশগ্রহণ করে প্রায় ২৭০টি চীনা কোম্পানির সঙ্গে বিটুবি বৈঠকে বাণিজ্যিক তথ্য বিনিময় করে।

ব্যবসায়িক আলোচনায় রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, চীন বৈশ্বিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং বাংলাদেশের আমদানির বড় অংশ চীন থেকে আসে, যার পরিমাণ গত অর্থবছরে প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি আরও জানান, চীন বর্তমানে বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশ, যেখানে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে।

তিনি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোটিভ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, সেমিকন্ডাক্টর ও উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পে যৌথ সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

এছাড়া স্টার্টআপ, ফিনটেক, এগ্রি-টেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বায়োটেকনোলজি, স্বাস্থ্যসেবা ও সাপ্লাই চেইনে প্রযুক্তিনির্ভর অংশীদারিত্ব দুই দেশের জন্য লাভজনক হবে বলেও তিনি মত দেন।

চীনা পক্ষের সিসিপিআইটি পরিচালক কিউ জানান, নানশা অঞ্চল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং ২০২৫ সালে এর জিডিপি ২৪০ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে। তিনি অটোমোবাইল, জাহাজ নির্মাণ ও বায়োমেডিসিন খাতে যৌথ সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

গুয়াংডং চেম্বারের সভাপতি উ শাওওয়েই বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং এজন্য দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

এদিকে সিসিসিএমই’র সহ-সভাপতি শি ইয়ংহং বলেন, ১৩৯তম ক্যান্টন ফেয়ার বৈশ্বিক ব্যবসায়িক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এবং এটি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য চীনা উৎপাদন খাতের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত