ঢাকা, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

মুনাফা ও নগদ প্রবাহে শক্ত ভিত গড়ছে একমি ল্যাবরেটরিজ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৭:১০:২৪

মুনাফা ও নগদ প্রবাহে শক্ত ভিত গড়ছে একমি ল্যাবরেটরিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফার্মা ও রসায়ন খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড চলতি অর্থবছরে আয় ও পরিচালন নগদ প্রবাহ—উভয় সূচকেই শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার বিস্তার এবং পণ্যে বৈচিত্র্য আনার কৌশল কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রকাশিত সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৮৬ পয়সা। এক প্রান্তিক ব্যবধানে এই প্রবৃদ্ধি কোম্পানিটির আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতাকে আরও জোরালো করেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) একমির মোট ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ১১ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। একই সঙ্গে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহেও বড় অগ্রগতি দেখা গেছে। প্রথমার্ধে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ১৬ পয়সা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬ টাকা ৮৫ পয়সা (রিস্টেটেড)। বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী নগদ প্রবাহ কোম্পানির কার্যক্রমের স্থিতিশীলতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন।

এর আগে জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রান্তিকেও কোম্পানির ইতিবাচক পারফরম্যান্স লক্ষণীয় ছিল। ওই সময়ে ইপিএস হয় ৩ টাকা ০১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৬১ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো বেড়ে ৭ টাকা ০৭ পয়সায় উন্নীত হয়, যা এক বছর আগে ছিল ৬ টাকা ৪৪ পয়সা। ধারাবাহিকভাবে আয় ও নগদ প্রবাহ বৃদ্ধির এ প্রবণতা কোম্পানির ব্যবসায়িক গতিশীলতারই ইঙ্গিত দেয়।

সম্পদমূল্যেও কোম্পানির অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১২৮ টাকা ৯৭ পয়সা, যা ৩০ জুন ২০২৫ শেষে ছিল ১২৬ টাকা ৩৭ পয়সা। সম্পদের এই বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

ডিভিডেন্ড প্রদানের ক্ষেত্রেও একমি ল্যাবরেটরিজ ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ২০২১ সালে ২৫ শতাংশ, ২০২২ সালে ৩০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৩৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে কোম্পানিটি। সর্বশেষ ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্যও ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ২০২৫ অর্থবছরে ইপিএস সামান্য কমে ১১ টাকা ৪৮ পয়সা হয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১১ টাকা ৬১ পয়সা, তবুও ডিভিডেন্ডের ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে আয়, নগদ প্রবাহ ও সম্পদমূল্যের ইতিবাচক প্রবণতা ইঙ্গিত করছে—একমি ল্যাবরেটরিজ প্রবৃদ্ধির ধারায় দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের স্থায়ী চাহিদা এবং কোম্পানির শক্ত মৌলভিত্তি ভবিষ্যতেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত