ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সৃজনশীল ও কর্মমুখী করতে চায় সরকার’

২০২৬ জুন ১৪ ২১:৫৭:৩৮

‘শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সৃজনশীল ও কর্মমুখী করতে চায় সরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও সৃজনশীল রূপ দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষ, যোগ্য ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে তেজগাঁওয়ের বিএএফ শাহীন কলেজের শাহীন হল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘স্টার্ট-আপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু একাডেমিক শিক্ষায় নয়, দক্ষতা ও মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হবে। তাদের মধ্যে পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষা বিকশিত হবে এবং তারা সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নির্মাতা হবে আজকের শিক্ষার্থীরাই। তাই তাদের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেউ স্কাউটিং, কেউ গার্লস গাইড, কেউ বিএনসিসি, আবার কেউ বিতর্ক, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, কোরআন তেলাওয়াত কিংবা খেলাধুলায় অংশ নিতে চাইলে সেই সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীদের পছন্দ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের বিকাশের সুযোগ থাকবে। যে শিক্ষার্থী যে পেশা বা কার্যক্রমে আগ্রহী, রাষ্ট্র তার জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি এ ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী ও সৃজনশীল আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, এই কর্মসূচি শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ নয়, একই সময়ে দেশের ৬৪ জেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো বিজ্ঞান, উদ্ভাবন, উদ্যোগ ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধাকে রাষ্ট্র গঠনের কাজে সম্পৃক্ত করা।

মাহদী আমিন বলেন, অনেকেই হয়তো জানেন না, কঠিন সময়েও ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ এবং ‘সুরভী’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নানা ধরনের প্রতিযোগিতা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থীদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, অনলাইনভিত্তিক সায়েন্স ফেয়ার, আর্টস প্রতিযোগিতা এবং উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে প্রশিক্ষণের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘সুরভী’র কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এসব উদ্যোগকে প্রশংসা করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে এটিকে জাতীয় পর্যায়ে মডেল হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি সহায়তা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও সুরভী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী এবং তার সহধর্মিণীর উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় এসব কার্যক্রম আরও বিকশিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে এসব কার্যক্রমকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মডেল হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। তিনি জানান, এবার ৬৪ জেলা থেকে প্রায় ১২ হাজার দল অংশগ্রহণ করেছে, যেখানে প্রায় ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী এবং ২৪ হাজার শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন।

তিনি বলেন, এই মডেলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত টিমওয়ার্ক। এখানে ভয়ের নয়, ভালোবাসা ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, আগামী বাংলাদেশের নির্মাতা তারাই। আর এই নির্মাণযাত্রায় শিক্ষকরাই হবেন পথপ্রদর্শক। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক একসঙ্গে কাজ করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মেধার বিকাশের পাশাপাশি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে হলে দেশের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে মাহদী আমিন সবাইকে নিজ নিজ মেধা, সৃজনশীলতা ও যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত