ঢাকা, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী 

২০২৬ আগস্ট ০১ ১৯:৩৩:৪০

দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকার ও ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলেও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তা অনুধাবন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

সরকারপ্রধান বলেন, সবাই স্বীকার করছেন যে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তবে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে। সরকারের বয়স এখনো ছয় মাস হয়নি। এর মধ্যেই একাধিকবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। প্রথমে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এবং পরে ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সেক্টরভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়েও সরকার কাজ করছে।

আগের বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, তার অনেকগুলোরই সমাধান হয়েছে। আজকের বৈঠকেও নতুন কিছু সমস্যা সামনে এসেছে, সেগুলো নিয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে সরকার। তিনি বলেন, যত বেশি আলোচনা হবে, তত বেশি সমস্যার বিষয়ে জানা যাবে এবং সেগুলোর সমাধান করা সহজ হবে।

আলোচনার মাধ্যমেই কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা সংলাপের মধ্য দিয়েই সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান পাওয়া সম্ভব। এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ২১টি বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি সাতটি বিষয় এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ সময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রূপরেখাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম

দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার গহনার দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পিওর) সোনার মূল্য বৃদ্ধির কারণে ২২ ক্যারেট সোনার... বিস্তারিত