ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে শিক্ষার সুযোগ সবার দোরগোড়ায় নিতে হবে’

২০২৬ জুন ১৪ ২১:০৮:৫৫

‘সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে শিক্ষার সুযোগ সবার দোরগোড়ায় নিতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষার সুযোগ যদি অনগ্রসর এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান।

রোববার রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এর ঢাকা জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলার ৩৭টি দল অংশ নেয়, যেখানে প্রথম স্থান অর্জন করে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, দ্বিতীয় হয় রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবং তৃতীয় স্থান পায় হলি ক্রস কলেজ। পরে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জুবাইদা রহমান।

অনুষ্ঠানে তিনি দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা থেমে নেই। তাদের মধ্য থেকেই কেউ ভবিষ্যতে দেশের নাম বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল করবে এমন বিজ্ঞানী হয়ে উঠতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জুবাইদা রহমান আরও বলেন, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার শিক্ষার অধিকার সমান। শিক্ষার সুযোগ যদি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে মেধা অন্বেষণ ও বিকাশের নতুন পথ তৈরি হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তাদের সাফল্য যেন জীবনকে আলোকিত করে এবং সেই আলোতে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, পুরোনো ধাঁচের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে সৃজনশীল ও বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক-গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, দেশজুড়ে ৬৪ জেলার প্রায় ১২ হাজার দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী-শিক্ষক মিলিয়ে বড় পরিসরে অংশগ্রহণ হয়েছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও শিক্ষকরা। অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

দেশব্যাপী ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায় শেষে সেরা ১০০ দল জাতীয় পর্বে অংশ নেবে, যা আগামী ২৮ জুন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে সেরা দলগুলোকে পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত