ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
শেয়ারবাজার থেকে ২৭০ কোটি টাকা তুলে নিল বিদেশিরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ সালে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সার্বিক অর্থনৈতিক দুর্বলতা, বাজারের ধারাবাহিক অস্থিরতা এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে গত বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিট ২৭০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। বছরজুড়ে তাদের মোট শেয়ার বিক্রি ছিল ২ হাজার ৯৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, বিপরীতে ক্রয় ছিল ১ হাজার ৮২৫ কোটি ০৭ লাখ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য, রাজনৈতিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে ২০২৫ সালে বিদেশিরা রক্ষণাত্মক অবস্থানে ছিলেন। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৫ দিনের লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশি অংশগ্রহণ প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত একটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের পর আস্থার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা মৌলভিত্তি শক্তিশালী শেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন। তার মতে, ফেব্রুয়ারি মাসেই বিদেশি নিট বিনিয়োগ ইতিবাচক ধারায় ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এবং মানসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার সরবরাহ বাড়ানো গেলে বিদেশি মূলধনের প্রবাহ আরও জোরদার হতে পারে। তারা উল্লেখ করেন, বর্তমানে অনেক আন্তর্জাতিক তহবিল ইমার্জিং ও ফ্রন্টিয়ার মার্কেটে নতুন সুযোগ খুঁজছে—যা বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। তবে ২০২৪ সালে পুনর্গঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর সংস্কার উদ্যোগ ও কারসাজিবিরোধী কঠোর অবস্থানের ফলে বাজারে একধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাবে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বাজারেও গতি কমে যায়।
ডিএসইর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত আট বছরের মধ্যে সাত বছরই বিদেশি নিট বিনিয়োগ ঋণাত্মক ছিল। শুধু ২০২৩ সালে ৬৪ কোটি টাকার নিট ইতিবাচক প্রবাহ দেখা যায়। ২০২৫ সালের মে থেকে আগস্ট সময়কালে বিদেশিরা তুলনামূলক সক্রিয়ভাবে শেয়ার কিনলেও, বছরের শেষ প্রান্তিকে বড় অঙ্কের বিক্রির মাধ্যমে তারা মূলধন তুলে নেন।
বাজার বিশেষজ্ঞদের অভিমত, দীর্ঘদিন ধরে মানসম্পন্ন ও বড় আকারের কোম্পানির শেয়ারের ঘাটতি বিদেশি বিনিয়োগের প্রধান অন্তরায় হয়ে আছে। রাষ্ট্রায়ত্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করা গেলে বাজারে গভীরতা ও তারল্য বাড়বে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এ বিষয়ে আলোচনা হলেও কার্যকর কোনো তালিকাভুক্তি হয়নি। ফলে নতুন সরকারের উচিত দ্রুত ও দৃঢ় নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে বাজারে আস্থা ও বিনিয়োগ পরিবেশ শক্তিশালী করা।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ নির্দেশনা জারি
- টানা ৫ দিনের বড় ছুটিতে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ এপ্রিল)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৪ এপ্রিল)
- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ব্রাজিল
- শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সম্ভাব্য সময় জানাল মন্ত্রণালয়
- বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের নতুন সময়সূচি প্রকাশ
- বৈশাখী ভাতা নিয়ে সর্বশেষ যা জানাল মাউশি
- ফের বাড়ছে স্বর্ণের দাম
- শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ট্রাস্ট
- সংসদ গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ
- দেশে সোনা ও রুপার দামে বড় পতন
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম
- ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে চমক দিলেন পরীমনি
- সংসদে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী