ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

বিএনপি প্রতিহিংসা নয় বরং আইনের শাসনে বিশ্বাসী: ড. মঈন খান

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৩:৩৮:৪০

বিএনপি প্রতিহিংসা নয় বরং আইনের শাসনে বিশ্বাসী: ড. মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক অচলায়তন ও একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশ এখন নতুন এক গণতান্ত্রিক ভোরের অপেক্ষায়। এমন পরিস্থিতিতে বিজয়ী রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি কোনো ধরনের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের পথে হাঁটবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত শেষে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ড. মঈন খান বলেন, বিএনপি একটি উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি যা সব সময় আইনের শাসনের ওপর শ্রদ্ধাশীল। তাঁর মতে, বিজয়ী হওয়ার অর্থ এই নয় যে কারো ওপর চড়াও হওয়া। তিনি স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করেন, “আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।” দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শকে পুঁজি করেই বিএনপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে যে সরব আলোচনা চলছে, সে বিষয়েও তিনি দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন। মঈন খান বলেন, বিএনপি কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষপাতী নয়। বিগত শাসনামলে যারা অপরাধ করেছে বা সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বিচার হবে প্রচলিত আইনের অধীনে। প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একদলীয় শাসনব্যবস্থা বা জোরপূর্বক কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতিকে বিএনপি ঘৃণা করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পরিবর্তিত এই প্রেক্ষাপটে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের যে পথে নেমেছে, সেখানে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারা দেশের নেতাকর্মীরা এখন রাজপথের সংগ্রাম শেষে দেশ গড়ার কাজে ব্যস্ত। সব দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন বিএনপির মূল লক্ষ্য।

ড. মঈন খান মনে করেন, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস এবং তাদের ভোটের মাধ্যমেই দেশে একটি ভারসাম্যপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জিয়াউর রহমানের যে অবদান, তা পাথেয় করেই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়া হবে। এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত