ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করে রমজানেও গা-জায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হা-মলা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ২১:৪০:০২

শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করে রমজানেও গা-জায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হা-মলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রমজান মাসের পবিত্রতা আর শান্তিচুক্তির প্রতিশ্রুতি—কোনোটিই দমাতে পারছে না ইসরায়েলি আগ্রাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির তোয়াক্কা না করেই রমজানের দ্বিতীয় দিনে গাজা উপত্যকায় নতুন করে তান্ডব চালিয়েছে দখলদার বাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিনভর গাজার আকাশ ভারী হয়ে ওঠে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের গর্জনে এবং মাটি কেঁপে ওঠে শক্তিশালী আর্টিলারি গোলার আঘাতে।

ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম ও নাজিরাতের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলীয় জনপদগুলোতে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। পাশাপাশি শুজাইয়া পাড়ার নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে বৃষ্টির মতো আর্টিলারি গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং আকাশে ফ্লেয়ার জ্বালিয়ে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। দক্ষিণ গাজার পরিস্থিতিও ছিল একই রকম; সেখানে খান ইউনুস ও রাফাহ সীমান্তে অন্তত দুটি বড় ধরনের বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি আল-মাওয়াসি এলাকাতেও ইসরায়েলি গোলন্দাজ বাহিনী ভারী হামলা চালিয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ লাখ ৭১ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত ১০ অক্টোবর ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরও হামলা পুরোপুরি থামায়নি ইসরায়েল। এই চুক্তির পরবর্তী সময়েই নতুন করে ৬১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ৬৩০ জন আহত হয়েছেন।

চলমান এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই গত দুই বছরের মতো এবারও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রোজা পালন করছেন গাজাবাসী। যদিও বৃহস্পতিবারের হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কতজন হতাহত হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে স্থানীয়রা বলছেন আবাসিক এলাকাগুলো লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। কথিত শান্তিচুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত