ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

'যে অর্থ কেউ দিতে চায় না বা জোর করে আদায় করা হয় সেটাই চাঁদা'

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ২০:৩৭:৪০

'যে অর্থ কেউ দিতে চায় না বা জোর করে আদায় করা হয় সেটাই চাঁদা'

নিজস্ব প্রতিবেদক: সড়ক পরিবহনে নেওয়া অর্থ সবসময় চাঁদা হিসেবে গণ্য করা যায় না—এমন মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তাঁর মতে, কোনো অর্থ যদি পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়, সেটিকে চাঁদা বলা ঠিক নয়; বরং কাউকে বাধ্য করে আদায় করা অর্থই প্রকৃত চাঁদা।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, সড়কে পরিবহন খাতে যে অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়, সেটাকে তিনি সরাসরি চাঁদা হিসেবে দেখেন না। মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো নিজেদের কল্যাণ তহবিলের জন্য এই অর্থ সংগ্রহ করে থাকে, যা অনেক ক্ষেত্রে অলিখিত নিয়মের মতো চলে আসছে। তাঁর ভাষায়, “যে অর্থ কেউ দিতে চায় না বা জোর করে আদায় করা হয়—সেটাই চাঁদা।”

তিনি বলেন, মালিক সমিতি নির্ধারিত হারে টাকা সংগ্রহ করে সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় করতে চায়। যদিও সেই অর্থের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তবুও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনও একইভাবে সমঝোতার ভিত্তিতে অর্থ সংগ্রহ করে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তবে রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রভাব অনেক সময় সেখানে দেখা যায়। তারপরও এটিকে সরাসরি চাঁদা হিসেবে দেখার সুযোগ কম বলেই মনে করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্থানে বাইরে থেকে চাপ প্রয়োগ করে কেউ অর্থ আদায় বা সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাবে না। তবে মালিকপক্ষ নিজেদের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নিলে সরকার তা পর্যবেক্ষণ করবে—সেখানে কেউ বঞ্চিত হচ্ছে কি না কিংবা অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের অনেক মহাসড়কের ওপর অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাজার বসে যাওয়ায় যানজট বাড়ছে। এসব কার্যক্রমকে নিয়মের মধ্যে এনে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ছুটি কম হলে চাপ বেড়ে যায় এবং যাত্রীদের ভোগান্তিও বাড়ে। গতবার দীর্ঘ ছুটির কারণে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো ছিল। এবারও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একই ধরনের ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা হবে এবং প্রয়োজনে নতুন পদক্ষেপও যোগ করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে সবাইকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে সরকার সক্ষম হবে। ছুটির সময়সীমা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও কয়েক দিনের মধ্যে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত