×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানে মার্কিন হা'মলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত, ট্রাম্পের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৯:১৮:০৭

ইরানে মার্কিন হা'মলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত, ট্রাম্পের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন চরম সীমায়। ইরানের কৌশলগত ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, হামলার যাবতীয় সামরিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন তা কেবল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ‘সবুজ সংকেত’ বা চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএনসহ একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতির খবর নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে মার্কিন বিমান ও নৌ-বাহিনীর এক বিশাল বহর জড়ো করা হয়েছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরি সেখানে আগেই অবস্থান করছিল, আর দ্বিতীয় রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড বর্তমানে দ্রুতগতিতে ওই অঞ্চলের দিকে এগোচ্ছে। এর পাশাপাশি অর্ধশতাধিক অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান এবং ডজনখানেক রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার মোতায়েন করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে এক বিশেষ বৈঠকে জানানো হয়েছে যে, আগামী মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর পূর্ণমাত্রার আঘাত হানার জন্য শতভাগ প্রস্তুত থাকবে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ইরানকে সমঝোতার পথে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তিতে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তিনি আরও দাবি করেন যে, আগেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বড় আঘাত হেনেছে, তবে ‘কূটনীতিই ট্রাম্পের প্রথম বিকল্প।’ যদিও গত মঙ্গলবার জেনেভায় দুই দেশের আলোচনায় সামান্য অগ্রগতির খবর মিলেছে, তবুও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে দুই পক্ষ এখনো যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছে।

এদিকে মার্কিন হুমকিকে তোয়াক্কা না করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি প্রতীকী এআই ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে একটি মার্কিন রণতরিকে সমুদ্রের অতলে ডুবে থাকতে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে লেখেন, ‘ওই রণতরির চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা তাকে সমুদ্রের তলায় পাঠাতে পারে।’ রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ইরানে নতুন হামলার পরিণতি কারো জন্যই ভালো হবে না এবং এটি ‘আগুন নিয়ে খেলার শামিল।’

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ১২ দিনের এক সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, ইরান বর্তমানে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা পর্যন্ত নিয়ে গেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি। মূলত এই পরমাণু সক্ষমতা অর্জনের পথ চিরতরে বন্ধ করতেই যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত