ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

হেরে গিয়েও সংসদে থাকছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১২:৩৩:৩৭

হেরে গিয়েও সংসদে থাকছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হলেও তার সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়নি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর পক্ষ থেকে তাকে উচ্চকক্ষের সদস্য হিসেবে মনোনয়নের জোর আলোচনা চলছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গণভোট ও জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে, যেখানে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ অনুযায়ী সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হবে। এবারের নির্বাচনে ৩০টি আসনে এনসিপি প্রার্থীরা মোট ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়েছে, যা মোট ভোটের ৩.২১ শতাংশ। সেই হিসেবে উচ্চকক্ষে দলটির অন্তত তিনজন সদস্য যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উচ্চকক্ষে সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর। যদিও দলীয়ভাবে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি, তবু অভ্যন্তরীণ আলোচনায় তার অবস্থান শক্ত বলে জানা গেছে। তবে তিনি যদি ঢাকার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে চান, সেক্ষেত্রে উচ্চকক্ষে তার থাকা অনিশ্চিত হতে পারে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তার ভাই সাইফের সঙ্গেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন মির্জা আব্বাস। তিনি পোস্টাল ভোটসহ মোট ৫৯ হাজার ৩৩৬ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট প্রায় পাঁচ হাজারের কিছু বেশি ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাড়াও উচ্চকক্ষে এনসিপির সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সারজিস আলম (পঞ্চগড়-1), দিলাশানা পারুল (ঢাকা-১৯) এবং সারোয়ার তুষার (নরসিংদী-২)। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে রাজনৈতিক সমঝোতা ও আসন বণ্টনের প্রক্রিয়ার ওপর।

সূত্র আরও জানায়, যদি ভোটের শতাংশের পরিবর্তে এমপি সংখ্যার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং অন্যান্য দল তাতে সম্মত হয়, তাহলে এনসিপি দুইটি আসন পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে নাসীরুদ্দীনসহ দুজনের সংসদে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এতে বিএনপি জোট ২১২, জামায়াত জোট ৭৭, স্বতন্ত্র ৭ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি আসন পেয়েছে। দুটি আসনের ফল ঘোষণা বাকি এবং একটি আসনে ভোট হয়নি।

অন্যদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ ভোট এবং ‘না’ পেয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ ভোট। ২৯৯ আসনে গণভোটে অংশগ্রহণের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।

জুলাই সনদে প্রস্তাবিত হয়েছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা নিম্নকক্ষ (জাতীয় সংসদ) ও উচ্চকক্ষ (সিনেট)। উচ্চকক্ষে থাকবে ১০০ সদস্য, যারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে মনোনীত হবেন। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন বাধ্যতামূলক থাকবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক বিজয়ী হওয়ায় সংবিধান সংস্কারের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। প্রথমে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করবে, এরপর সরকার সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। সংশোধনী পাস ও রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর উচ্চকক্ষ গঠনের জন্য পৃথক আইন প্রণয়ন করা হতে পারে।

উচ্চকক্ষ সরাসরি সরকার গঠন বা অনাস্থা প্রস্তাবে ভূমিকা না রাখলেও আইন পর্যালোচনা, সংশোধনী প্রস্তাব ও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে বিশেষ ক্ষমতা ভোগ করবে। নিম্নকক্ষে পাস হওয়া বিল উচ্চকক্ষে পুনর্বিবেচনার সুযোগ পাবে, যা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত যাচাই নিশ্চিত করবে।

এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের উচ্চকক্ষে মনোনয়ন দিতে পারবে তবে এটি কেবল ত্রয়োদশ সংসদের জন্য প্রযোজ্য। চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী হবে এবং তখন দলগুলোকে আগেভাগেই নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের জন্য পৃথক প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে; একই ব্যক্তি দুই কক্ষে প্রার্থী হতে পারবেন না।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত