ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২

নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শিখরে: তারেক রহমানের সামনে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ০০:১০:০৩

নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শিখরে: তারেক রহমানের সামনে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার মাত্র সাত সপ্তাহের মাথায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই ক্ষমতা গ্রহণ কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘টাইম’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান তাঁর আগামীর লক্ষ্য ও পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিশোধের রাজনীতি নয় বরং ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়া এবং আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফেরানোই হবে তাঁর প্রথম কাজ।

জাতীয় ঐক্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু এবং গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক ক্ষত মুছে ফেলা তারেক রহমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিশোধ দেশ এগোতে সাহায্য করে না। তাই দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে পথ চলার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা দেশের ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রিজার্ভ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমানের পরিকল্পনায় রয়েছে ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করা, ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং নিম্নবিত্তদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। প্রতি বছর ২০ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে বৈদেশিক আয় বাড়ানোর যে রূপরেখা তিনি দিয়েছেন, তা সফল হলে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি

তারেক রহমানের বৈদেশিক নীতির ওপর বিশেষ নজর রাখছে বিশ্ব সম্প্রদায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতোমধ্যে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, অতীতের কিছু ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ চুক্তি পর্যালোচনা করা হলেও প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই তাঁর লক্ষ্য। তবে সবকিছুর ওপরে থাকবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং তুলা আমদানির বিনিময়ে শুল্কমুক্ত পোশাক রপ্তানির সুবিধা নেওয়াকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন অনেকে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বিএনপির এই অর্থনৈতিক বোঝাপড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জেন-জি প্রজন্মের প্রত্যাশা

এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তারেক রহমান সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা দেশে একটি টেকসই রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এছাড়া জুলাই বিপ্লবের মূল কারিগর শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই হবে তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্নিপরীক্ষা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৭ কোটি মানুষের এই দেশটিকে যদি তারেক রহমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে নিতে পারেন, তবে তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় একজন প্রভাবশালী এবং দূরদর্শী বিশ্বনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবেন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত