ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
গণভোটের কাঠামো নিয়ে যা বললেন জাতীয় মসজিদের খতিব
নিজস্ব প্রতিবেদক: গণভোটের বর্তমান কাঠামো জনগণের জন্য বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। একাধিক বিষয়ের ওপর একসঙ্গে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে বাধ্য করাকে তিনি ভোটারের স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার খুতবায় তিনি বলেন, ভোট মানুষের মৌলিক অধিকারই নয়, বরং এটি একটি পবিত্র ‘আমানত’। তাই এই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেশবাসীকে সচেতন, সতর্ক ও আল্লাহভীরু হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
খতিব বলেন, চলমান গণভোটে পাঁচ থেকে আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একত্র করে ভোট নেওয়া হচ্ছে। অথচ প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। ভোটারদের সামনে শুধু একটি সিল হ্যাঁ কিংবা না। এতে কেউ যদি কোনো বিষয়ে একমত হন এবং অন্য বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন, তাও প্রকাশের সুযোগ থাকছে না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, আলাদা অপশন না রাখার পেছনে আসল সমস্যা কোথায়? সিল কম পড়েছে নাকি কালি শেষ হয়ে গেছে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। একটি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বলতে গিয়ে সব বিষয়ে সম্মতি জানাতে বাধ্য হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর ও বিভ্রান্তিকর।
মুফতি আবদুল মালেক বলেন, একজন সচেতন ভোটার স্বাভাবিকভাবেই সব বিষয়ে একই মত পোষণ নাও করতে পারেন। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় তাকে জোর করে একটি অবস্থান নিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা প্রকৃত গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
খুতবায় তিনি স্পষ্ট করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ উভয়টি বৈধ বিকল্প। সরকার বা কোনো রাজনৈতিক দল ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহ দিলেও ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। কাউকে কোনো একটি সিদ্ধান্ত নিতে চাপ প্রয়োগ করা অনুচিত।
ভোট দেওয়ার সময় দলীয় নাম, প্রতীক কিংবা স্লোগানের প্রভাব থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন জাতীয় মসজিদের খতিব। তিনি বলেন, ইসলামের নাম ব্যবহার করলেই কোনো দল ইসলামসম্মত হয়ে যায় এই ধারণা সঠিক নয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক রাজনৈতিক দল ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও বাস্তবে তাদের আদর্শ ও কর্মকাণ্ড সেকুলার ধারার সঙ্গে মিল খুঁজে পায়। তাই ভোট দেওয়ার আগে দলের আদর্শ, ইশতেহার ও অতীত কর্মকাণ্ড যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
খুতবার উপসংহারে মুফতি আবদুল মালেক বলেন, ভয়, লোভ বা প্ররোচনায় নয় বরং চরিত্র, তাকওয়া, যোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে প্রাধান্য দিয়েই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে বিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যেতে টিকিট কাটবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)
- পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করার পর শিক্ষার্থীদের করণীয় কী
- আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- একাদশে ভর্তি: আবেদন ও প্রক্রিয়া জানুন
- পিএসসিতে আরও চার সদস্য নিয়োগ
- ১৯তম নিবন্ধন থেকে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করবে না এনটিআরসিএ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ আগস্ট)