ঢাকা, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২

বাংলাদেশ ছাড়া শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিতর্কিত আসর

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১০:৪৮:৪০

বাংলাদেশ ছাড়া শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিতর্কিত আসর

স্পোর্টস ডেস্ক: নিরাপত্তা ও রাজনীতির জটিলতায় ঘেরা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আজ পর্দা উঠছে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। তবে এবারের আসরে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। ২০০৭ সালে প্রথম আয়োজনের পর প্রতিটি আসরেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও এবার সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে।

সব মিলিয়ে এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর হলেও বাংলাদেশ ছাড়া টুর্নামেন্ট শুরু হওয়াটা বিশ্ব ক্রিকেটে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেটকে।

ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যদিও বাংলাদেশের তিনজন প্রতিনিধি ভিন্ন ভূমিকায় বিশ্বকাপে থাকছেন। ধারাভাষ্য প্যানেলে রয়েছেন আতহার আলী খান। আম্পায়ার প্যানেলে দায়িত্ব পালন করবেন শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ ও গাজী সোহেল।

এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ২০টি দল অংশ নিচ্ছে। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে রাজনৈতিক চাপ, নিরাপত্তা ইস্যু ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন। ফলে প্রতিযোগিতার উত্তেজনার বদলে বিতর্কই বেশি জায়গা করে নিয়েছে।

উদ্বোধনী দিনে তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। যৌথ আয়োজক শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস। ভারতের ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেনসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। আর ‘এ’ গ্রুপের আরেক ম্যাচে মুম্বাইয়ে স্বাগতিক ভারত লড়বে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে।

বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য আজকের দিনটি আরও বেদনাদায়ক হতে পারত। ‘সি’ গ্রুপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ–স্কটল্যান্ড ম্যাচে লিটন দাসদের খেলার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেই সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পরিবর্তে টুর্নামেন্টে জায়গা পায় স্কটল্যান্ড।

পুরো সংকটের সূত্রপাত হয় মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে। আইপিএলের জন্য তাঁকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে ভারতের কিছু উগ্রবাদী সংগঠনের চাপের মুখে বিসিসিআই ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে মুস্তাফিজকে বাদ দিতে নির্দেশ দেয়। শেষ পর্যন্ত কলকাতাও তাঁকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়।

এরপর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বিসিবি আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরানোর অনুরোধ জানায়। একাধিক দফা আলোচনা হলেও আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। সংস্থাটি জানায়, তাদের স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নে কোনো ‘যাচাইযোগ্য হুমকি’ পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানও অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররাও আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। এমনকি পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিতও দেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।

পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনার পর অবস্থান স্পষ্ট করে পিসিবি। সিদ্ধান্ত হয়, পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নিলেও আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ খেলবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পুরো পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়া ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিল বাস্তবতার প্রতিফলন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ দিয়ে শুরু হওয়া সংকট এখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত গড়িয়েছে। মাঠে খেলা শুরু হলেও, এই বিতর্কের পরিণতি কোথায় গিয়ে থামবে—তা এখনো অনিশ্চিত।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত