ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২

ট্রাম্পের অনুরোধে ইউক্রেনে রুশ হামলায় বিরতি

২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ১১:৩৫:৩১

ট্রাম্পের অনুরোধে ইউক্রেনে রুশ হামলায় বিরতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ওয়াশিংটনের সরাসরি অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাময়িক বিরতি দিয়েছে রাশিয়া। মস্কো জানিয়েছে, এই স্থগিতাদেশ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র ও প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) এক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই বিরতি সম্ভাব্য যুদ্ধাবসান আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে বলে রাশিয়া আশা করছে।

তবে হামলা স্থগিতের বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি পেসকভ। ইউক্রেনের সঙ্গে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না কিংবা কিয়েভও একই সময়ে হামলা বন্ধ রাখবে কি না—এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।

এর আগে বুধবার (২৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইউক্রেনে আগামী এক সপ্তাহ রুশ বাহিনী বড় ধরনের হামলা চালাবে না। তিনি বলেন, তীব্র শীতের কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলে কিয়েভ ও অন্যান্য শহরে হামলা বন্ধের অনুরোধ করেন, যা পুতিন মেনে নিয়েছেন।

একই দিন ইউক্রেনের সংসদ সদস্য অ্যালেক্সেই গোনচারেঙ্কো দাবি করেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ খাতে হামলা বন্ধের বিষয়ে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে বিভিন্ন অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকলেও রোববার থেকে তা আরও কমে মাইনাস ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে।

ক্রিমিয়া ইস্যু ও ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়ে কিয়েভের অবস্থানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া এই অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।

এই অভিযানে ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সর্বশেষ ২৬ জানুয়ারি রাতে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এতে প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ ১২ লাখের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

ইউক্রেনের বিদ্যুৎমন্ত্রী ডেনিস শ্মিগাল বৃহস্পতিবার জানান, সরকার দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে। তবে এখনও ১০ লাখের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত