ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

পুরোনো ধাঁচ বদলে আন্তর্জাতিক মানের শ্রেণিবিন্যাস চায় ডিবিএ

২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৫:৫৯:০৪

পুরোনো ধাঁচ বদলে আন্তর্জাতিক মানের শ্রেণিবিন্যাস চায় ডিবিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বর্তমান খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তুলে এটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জোর দাবি জানিয়েছে ব্রোকারদের শীর্ষ সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

সংগঠনটির মতে, বর্তমান কাঠামোটি বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে অপরিবর্তিত থাকা বর্তমান ২২টি খাতের কাঠামোটি আধুনিক শেয়ারবাজারের গতিপ্রকৃতি ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে।

ডিবিএ তাদের চিঠিতে স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ উন্নত শেয়ারবাজার গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন স্ট্যান্ডার্ড (জিআইসিএস) কিংবা ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন বেঞ্চমার্ক (আইসিবি) অনুসরণ করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই মানদণ্ডগুলো অনুসরণ করলে খাতভিত্তিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ অনেক বেশি স্বচ্ছ ও নির্ভুল হয়। ডিবিএ মনে করে, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে যদি বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক করতে হয় এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে হয়, তবে এই পুরনো ঘরানার শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন খাতের তুলনামূলক চিত্র আরও সহজে বুঝতে পারবেন।

বিদ্যমান কাঠামোর অসংগতিগুলো প্রমাণ করতে ডিবিএ বেশ কিছু নামী কোম্পানির উদাহরণ চিঠিতে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে ম্যারিকো বাংলাদেশ ‘ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড কেমিক্যালস’ এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ‘ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড’ খাতে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এদের ‘কনজ্যুমার স্ট্যাপলস’ খাতে থাকা উচিত। একইভাবে ওয়ালটন, সিঙ্গার, বাটা ও অ্যাপেক্সের মতো কোম্পানিগুলোকে ‘কনজ্যুমার ডিসক্রিশনারি’ খাতে বিন্যস্ত করা হলে তাদের ব্যবসায়িক প্রকৃতি ও গ্রাহক চাহিদাভিত্তিক কার্যক্রম আরও যথাযথভাবে প্রতিফলিত হতো। বর্তমান এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিন্যাসের কারণে কোম্পানিগুলোর আয়ের উৎস ও ভোক্তা আচরণ বুঝতে বিশ্লেষকদের বেগ পেতে হচ্ছে।

সংগঠনটির মতে, সঠিক শ্রেণিবিন্যাস কেবল একটি তালিকা নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক প্রবণতা এবং ভোক্তা আচরণের গভীর বিশ্লেষণ নিশ্চিত করে। বর্তমানে প্রচলিত সেকেলে কাঠামোটি এই বিশ্লেষণের পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে। ডিবিএ বিশ্বাস করে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গ্রহণ করা হলে বাজারের স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের একটি শক্তিশালী তুলনামূলক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। এটি বাজারের গভীরতা বাড়াতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

চিঠির শেষাংশে ডিবিএ বিএসইসির প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দ্রুত এই খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এই ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে দেশের শেয়ারবাজারের প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে বাজার বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আমাদের শেয়ারবাজারের সংযুক্তি আরও বেশি টেকসই হবে বলে ডিবিএ আশা প্রকাশ করেছে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত