ঢাকা, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২

সূচকের বড় পতন: আতঙ্ক না ধৈর্যের পরামর্শ বাজার সংশ্লিষ্টদের

২০২৬ মার্চ ০৮ ১৪:২০:০৮

সূচকের বড় পতন: আতঙ্ক না ধৈর্যের পরামর্শ বাজার সংশ্লিষ্টদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে শেয়ার বিক্রির চাপে দেশের শেয়ারবাজার ৩৩ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। গতকাল (০৮ মার্চ) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচকের এই বড় পতন বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুললেও দীর্ঘমেয়াদে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই দেশের শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক দরপতন চলছে। আন্তর্জাতিক এই সংকটের প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা পতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সূচক এমন অবস্থানে নেমে আসে যা প্রায় সাড়ে চার সপ্তাহ আগে শেষবার দেখা গিয়েছিল।

পতনের দ্বিতীয় প্রধান কারণ হিসেবে ঈদুল ফিতরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সামনের সপ্তাহেই পবিত্র এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও নগদ টাকার চাহিদা বাড়ায় অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে অর্থ উত্তোলন করছেন। ফলে বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে, যা দরপতনকে ত্বরান্বিত করেছে।

তবে এই পরিস্থিতিকে খুব বেশি নেতিবাচকভাবে দেখছেন না বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মৌসুমী কারণে সৃষ্ট এই অস্থিরতা অস্থায়ী। ঈদের পর বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল।

এ বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্ট এক বিশ্লেষক বলেন, 'আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও ঈদের কেনাকাটার চাপ একসাথে পড়ায় পতনের মাত্রা কিছুটা বেশি হয়েছে। কিন্তু এটা শঙ্কার কারণ নয়। বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য এটা সঠিক শেয়ার সংগ্রহ করার সুযোগও হতে পারে।'

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের উভয় শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেন উভয়ই নিম্নমুখী। তবে গতকাল পতনের মাত্রা ছিল তীব্রতর।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৩১.৮৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮.৯৯ পয়েন্টে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস -৩৫.২৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩.৪৬ পয়েন্টে, যা গত ৩৩ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ১৫ মার্চ ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ৯৫৮.৯৮ পয়েন্ট। আজ অন্য ডিএসই-৩০ সূচক ৯১.৫৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯১৯.৯৭ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৯০টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০টির দর বেড়েছে, ৩৭১টির দর কমেছে এবং ৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইতে এদিন প্রায় ৫২৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৪৫৯ কোটি ৪২ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ৬৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ১৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগেরদিন সিএসইতে ৪১ কোটি ৩৫ লাখ শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৬৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১১টির, কমেছে ১৪৭টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৬টির।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৯৬.৬২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩২৮.৫১ পয়েন্টে। আগেরদিন সূচক সিএএসপিআই ১৯২.৪৬ পয়েন্ট কমেছিল।

এসএ খান/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত