ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
চার বেসরকারি ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক নিয়োগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে চারটি বেসরকারি ব্যাংকের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যেসব ব্যাংকে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো— ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে এসব ব্যাংককে বিষয়টি জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কারণে এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনোনীত স্বতন্ত্র ও শেয়ারধারী পরিচালকদের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। তবে প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ায় এবার পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্বতন্ত্র পরিচালকদের বিরুদ্ধেও কিছু অভিযোগ ওঠার বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযোগ বিবেচনায় নিয়েই ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পদমর্যাদার চার কর্মকর্তা। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি এবং নিরীক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করবেন। একই ব্যাংকে স্বতন্ত্র পরিচালক থাকার পরও নতুন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১২ এর পরিচালক মুনির আহমেদ চৌধুরী। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, প্রিমিয়ার ব্যাংকে পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের পরিচালক এ এন এম মঈনুল কবির এবং আইএফআইসি ব্যাংকে ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-১ এর পরিচালক এ কে এম কামরুজ্জামানকে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এসব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রভাব ছিল। ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালনায় ছিল জয়নুল হক সিকদারের সিকদার গ্রুপ, প্রিমিয়ার ব্যাংক পরিচালনা করত এইচ বি এম ইকবালের প্রিমিয়ার গ্রুপ। এছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকে নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনায় ছিলেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের জুনে ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৪৯ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেড়ে ৭৫ শতাংশের বেশি হয়েছে। একই সময়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে। আইএফআইসি ব্যাংকে তা ৯ শতাংশ থেকে ৬১ শতাংশে এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ব্যাংকারদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিলেন। তখন এসব ঋণ নিয়মিত দেখানো হলেও বর্তমানে সেগুলোর বড় অংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ফের বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল
- ঢাবিতে গ্রিন নেক্সাস কর্মসূচি সমাপ্ত
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ