ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

জেনে নিন নিয়মিত কলা খেলে শরীরে কী পরিবর্তন আসে

২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১১:২৯:২৯

জেনে নিন নিয়মিত কলা খেলে শরীরে কী পরিবর্তন আসে

ডুয়া ডেস্ক: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গ উঠলেই বেশিরভাগ মানুষ ওষুধ, লবণ কমানো কিংবা কঠোর ডায়েটের কথা ভাবেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেকের মধ্যেই একটি ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিদিন কলা খেলেই নাকি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। বিষয়টি কতটা বাস্তবসম্মত, সে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা।

কলা খাওয়ার প্রথম ২৪ ঘণ্টায় শরীরে কী হয়

একটি মাঝারি আকারের কলা থেকে শরীরে প্রায় ৪২০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম প্রবেশ করে। এই খনিজ উপাদান রক্তনালির দেয়ালের পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে রক্তনালি কিছুটা প্রসারিত হয় এবং রক্তপ্রবাহ সহজ হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ভ্যাসোডাইলেশন’। এর ফলে রক্তচাপ কমতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা জানান, একদিন বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রক্তচাপে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায় না। নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদে কলা খাওয়ার অভ্যাসই আসল উপকার এনে দেয়।

কলা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

অনেকে বিশ্বাস করেন-

  • দিনে একটি কলা খেলেই উচ্চ রক্তচাপ সেরে যাবে
  • ডায়াবেটিস থাকলে কলা একেবারেই নিষিদ্ধ
  • কলায় চিনি বেশি, তাই এটি ক্ষতিকর

বাস্তবে একটি কলা দৈনিক প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ জোগায়। গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তচাপ কমাতে দিনে অতিরিক্ত ১৫০০ থেকে ৩৫০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম গ্রহণ করা হয়েছিল। ফলে শুধু কলার ওপর নির্ভর করলে সমাধান মিলবে না; এটি হতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ মাত্র। ডায়াবেটিস রোগীরাও পরিমিত পরিমাণে কলা খেতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে কলা খেলে রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

এক সপ্তাহ কলা খেলে কিডনির প্রতিক্রিয়া

টানা কয়েক দিন কলা খাওয়ার ফলে কিডনি ধীরে ধীরে শরীরে পটাশিয়ামের নিয়মিত সরবরাহের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। তখন কিডনি অতিরিক্ত সোডিয়াম ও পানি বের করে দিতে শুরু করে। যেহেতু সোডিয়াম শরীরে পানি ধরে রাখে, তাই এটি কমলে রক্তের পরিমাণও কমে আসে এবং রক্তচাপ হ্রাসে সহায়তা করে।

এ সময় শরীরের ফোলাভাব কমতে পারে, মাথা হালকা লাগতে পারে, যদিও প্রস্রাবের পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে।

এক মাস পর কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে রক্তচাপে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ে। ৩৩টি গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা যায়-

সিস্টোলিক রক্তচাপ গড়ে ৩-৫ পয়েন্ট কমে

ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ গড়ে ২-৩ পয়েন্ট কমে

যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ ছিল, তাদের ক্ষেত্রে সুফল তুলনামূলক বেশি

তবে এসব গবেষণা শুধু কলাকে কেন্দ্র করে হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা ডিএএসএইচ ডায়েট অনুসরণ করা হয়েছিল, যেখানে ফল, শাকসবজি ও কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই খাদ্যতালিকায় কলা গুরুত্বপূর্ণ হলেও একমাত্র উপাদান নয়।

রক্তচাপ ছাড়াও পটাশিয়ামের উপকারিতা

নিয়মিত পটাশিয়াম গ্রহণের ফলে-

হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ কমে

স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে

রক্তনালি নমনীয় থাকে

মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়

দীর্ঘমেয়াদে এসব পরিবর্তন সামগ্রিক জীবনমান উন্নত করতে সহায়তা করে।

কতটা কলা খাওয়া যুক্তিযুক্ত

চিকিৎসকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক পটাশিয়ামের চাহিদা প্রায় ৩৫০০ থেকে ৪৭০০ মিলিগ্রাম। শুধু কলা দিয়ে এই চাহিদা পূরণ করতে গেলে দিনে ৮–১০টি কলা খেতে হবে, যা বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্রতিদিন ১-২টি কলা খাওয়াই যথেষ্ট। পাশাপাশি পালং শাক, মিষ্টি আলু, ডাল, অ্যাভোকাডো, নারকেল পানি, টমেটো ও শিমের মতো পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।

সবশেষে বলা যায়, নিয়মিত কলা খাওয়া নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। তবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে একে একমাত্র সমাধান ভাবা ঠিক নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৮ জানুয়ারি)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৮ জানুয়ারি)

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (১৪... বিস্তারিত