ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কি ফিরিয়ে দেবে বিনিয়োগকারীদের আশা?
নিজস্ব প্রতিবেদন: দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে ২০২৬ সালে এক অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিরতা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোই হবে এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের নানা চড়াই-উতরাই ও নীতিগত পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে নতুন বছরটি বিনিয়োগকারীদের জন্য এক আশার আলো নিয়ে আসছে।
গ্লোবাল ফান্ড ম্যানেজার ‘এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটাল’ (এএফসি) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, কয়েক বছরের কঠিন সময় পার করার পর ২০২৬ সাল হবে বাংলাদেশের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোড় ঘোরানোর বছর। বিশেষ করে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ফিরলে বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগকারীদের হারানো আত্মবিশ্বাস পুনরায় ফিরে আসবে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতি কমে আসার পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের সুদের হারও হ্রাস পেতে পারে। ইবিএল সিকিউরিটিজ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি তাদের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি কিছুটা শিথিল করে, তবে বাজারে দীর্ঘদিনের তারল্য সংকট দূর হবে। এর ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়বে এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা শেয়ারবাজারকে সরাসরি চাঙ্গা করবে।
বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজারের দর অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সাশ্রয়ী পর্যায়ে রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে বাজারের সার্বিক মূল্য-আয় অনুপাত (পি/ই রেশিও) দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮.৬, যা এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। অনেক নামী বহুজাতিক এবং ব্লু-চিপ কোম্পানির শেয়ার এখন তাদের গড় মূল্যের চেয়ে অনেক নিচে লেনদেন হচ্ছে, যা স্মার্ট বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় একটি সুযোগ।
ব্র্যাক ইবিএল স্টক ব্রোকারেজের গবেষণা প্রধান সেলিম আফজাল শাওনের মতে, ২০২৬ সালে কেবল সামষ্টিক অর্থনীতির উন্নতিই যথেষ্ট নয়, বরং বাজারকে টেকসই করতে ভালো মানের আইপিও এবং আধুনিক অবকাঠামো প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, ব্যাংক খাতের বর্তমান সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ীদের অর্থায়নের যে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে, পুঁজিবাজার সেই চাহিদা মেটানোর যোগ্য বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে, বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আইপিও বিধিমালা সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে শক্তিশালী ট্র্যাক রেকর্ড সম্পন্ন কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে উৎসাহিত হবে। এছাড়া বড় বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে জোর আলোচনা চলছে। মূলত রাজনৈতিক স্পষ্টতা, সুদের হার কমার সম্ভাবনা এবং নতুন মানসম্পন্ন শেয়ারের আগমন ২০২৬ সালে দেশের পুঁজিবাজারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জুয়েল/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা