ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কি ফিরিয়ে দেবে বিনিয়োগকারীদের আশা?
নিজস্ব প্রতিবেদন: দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে ২০২৬ সালে এক অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিরতা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোই হবে এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের নানা চড়াই-উতরাই ও নীতিগত পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে নতুন বছরটি বিনিয়োগকারীদের জন্য এক আশার আলো নিয়ে আসছে।
গ্লোবাল ফান্ড ম্যানেজার ‘এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটাল’ (এএফসি) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, কয়েক বছরের কঠিন সময় পার করার পর ২০২৬ সাল হবে বাংলাদেশের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোড় ঘোরানোর বছর। বিশেষ করে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ফিরলে বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগকারীদের হারানো আত্মবিশ্বাস পুনরায় ফিরে আসবে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতি কমে আসার পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের সুদের হারও হ্রাস পেতে পারে। ইবিএল সিকিউরিটিজ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি তাদের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি কিছুটা শিথিল করে, তবে বাজারে দীর্ঘদিনের তারল্য সংকট দূর হবে। এর ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়বে এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা শেয়ারবাজারকে সরাসরি চাঙ্গা করবে।
বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজারের দর অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সাশ্রয়ী পর্যায়ে রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে বাজারের সার্বিক মূল্য-আয় অনুপাত (পি/ই রেশিও) দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮.৬, যা এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। অনেক নামী বহুজাতিক এবং ব্লু-চিপ কোম্পানির শেয়ার এখন তাদের গড় মূল্যের চেয়ে অনেক নিচে লেনদেন হচ্ছে, যা স্মার্ট বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় একটি সুযোগ।
ব্র্যাক ইবিএল স্টক ব্রোকারেজের গবেষণা প্রধান সেলিম আফজাল শাওনের মতে, ২০২৬ সালে কেবল সামষ্টিক অর্থনীতির উন্নতিই যথেষ্ট নয়, বরং বাজারকে টেকসই করতে ভালো মানের আইপিও এবং আধুনিক অবকাঠামো প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, ব্যাংক খাতের বর্তমান সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ীদের অর্থায়নের যে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে, পুঁজিবাজার সেই চাহিদা মেটানোর যোগ্য বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে, বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আইপিও বিধিমালা সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে শক্তিশালী ট্র্যাক রেকর্ড সম্পন্ন কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে উৎসাহিত হবে। এছাড়া বড় বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে জোর আলোচনা চলছে। মূলত রাজনৈতিক স্পষ্টতা, সুদের হার কমার সম্ভাবনা এবং নতুন মানসম্পন্ন শেয়ারের আগমন ২০২৬ সালে দেশের পুঁজিবাজারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জুয়েল/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়ের মৃ’ত্যু
- সকালে না রাতে, কখন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো?
- স্কলারশিপ দিচ্ছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল আজই
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য মোর্শেদ হাসান খানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা সিরোহী আর নেই