ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২
আসামকে বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আসামের সামাজিক কাঠামো ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলে যাওয়ার শঙ্কা, যেখানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি রাজ্যের পরিচয় ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এই মন্তব্য ঘিরে সীমান্ত, অভিবাসন ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে ফের তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার একটি সরকারি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আসামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যদি আরও ১০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যা কার্যত রাজ্যের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলবে। তিনি একে ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের অংশ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি’ বলে আখ্যা দেন।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তিনি গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই প্রবণতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি আর কেবল জনসংখ্যার হিসাব নয়, এটি আসামের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
বাংলাদেশের এক নেতার উত্তর-পূর্ব ভারতকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, বর্তমানে আসামের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমনটাই তাঁর দাবি। এই হার আরও বাড়লে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে গভীর প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এনডিটিভির খবরে আরও বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি বক্তব্য ঘিরে ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে বাংলাদেশের উচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা এবং সেখানে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়া।
হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে, কারণ অঞ্চলটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছে সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের মাধ্যমে, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত।
এই মন্তব্যগুলোর কড়া জবাবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য অব্যাহত থাকলে দিল্লি নিশ্চুপ থাকবে না।
বাংলাদেশ থেকে বারবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে আলাদা করে দেখার যে বক্তব্য আসছে, তা সম্পূর্ণ ভুল ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভারত একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এই বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে এমন মনোভাব বা ধারণা পোষণ করলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর আসামসহ গোটা উত্তর-পূর্ব ভারতে আবারও অভিবাসন, জনসংখ্যা পরিবর্তন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৩ ফেব্রুয়ারি)
- ঢাবির ১৯ শিক্ষার্থী পেলেন ‘টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’
- টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: জেনে নিন সরাসরি দেখার উপায়
- দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিম চালু
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
- ডিইউপিএস-এর ২৩তম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা: সভাপতি আবীর, সম্পাদক হাসিব
- ৩৬০ মিটার, মোবাইল নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষমতার রাজনীতি: নিরাপত্তার নামে কতটা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য?
- এক নজরে দেখে নিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিবর্তিত সময়সূচি
- সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনাল: ভারত বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল জানুন
- ঢাবির 'বি' ইউনিটের পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, পরিবর্তন ৮ জনের
- বিমস্টেকও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর মধ্যে বিশেষ বৈঠক সম্পন্ন
- ৪ দিন ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ ঘোষণা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন