ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর: ঘরে ফিরছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে গাজা উপত্যকায় অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে হামাস ও ইসরায়েল। এই সমঝোতার ফলে শুধু যুদ্ধ থামছে না, উভয় পক্ষই একে অপরের আটক ব্যক্তিদের মুক্তিও দেবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনারা ইতোমধ্যেই গাজার বেশ কিছু অঞ্চল থেকে সরে গেছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ভিটেমাটি হারানো হাজারো ফিলিস্তিনি নিজেদের বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হাতে জিম্মি হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার ইসরায়েলে প্রিয়জনদের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
দুই বছরের অবিরাম ইসরায়েলি হামলায় গভীর শোক আর ধ্বংসস্তূপে নিমজ্জিত গাজাবাসী যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। ঘরে ফেরার সুযোগে তারা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছেন।
খান ইউনিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাজারো বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি গাজার পথে যাত্রা শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে কিছুটা ভয় থাকলেও, পরে মধ্য গাজার তুলনামূলক নিরাপদ অঞ্চলগুলো থেকে দলবদ্ধভাবে মানুষ হাঁটতে শুরু করে গাজা সিটির দিকে।
রাস্তায় হাঁটার সময় জনতার মুখে উল্লাসধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে। কেউ ‘আল্লাহু আকবার’ বলছেন, কেউবা শিস বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন।
বাস্তুচ্যুত গাজা সিটির বাসিন্দা ইব্রাহিম আল-হেলু (৪০) বলেন, “আমি আবেগাপ্লুত হলেও সতর্ক ছিলাম। পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, গুলিবর্ষণ হচ্ছিল। তাই একটু অপেক্ষা করে পরিবেশ বোঝার চেষ্টা করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, এখন রাস্তায় কোনো বাধা নেই, আমরা সবাই গাজায় ফিরে যাচ্ছি নিজেদের বাড়ি আর এলাকার অবস্থা দেখতে।
গত বুধবার (৮ অক্টোবর) মিশরের পর্যটন নগরী শারম আল-শেখে অনুষ্ঠিত আলোচনায় হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা ‘শান্তি পরিকল্পনা’ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলে। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিশর ও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখে।
চুক্তির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লেখেন, আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইসরায়েল ও হামাস উভয়েই স্বাক্ষর করেছে। এর অর্থ, সব জিম্মিকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া হবে এবং ইসরায়েল নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। এটি চিরস্থায়ী শান্তির প্রথম ধাপ।
হামাসের পক্ষ থেকেও চুক্তি কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সংগঠনটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই সমঝোতা গাজার সংঘাতের সমাপ্তি ঘটাবে, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পথ খুলে দেবে, মানবিক সাহায্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে এবং বন্দিবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
পরবর্তীতে হামাসের আলোচক দলের প্রধান খলিল আল-হায়া জানান, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো নিশ্চয়তা দিয়েছে যে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় প্রায় ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে মাত্র দুই দফায় সীমিত সময়ের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: সরাসরি দেখা যাবে এখানে LIVE
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ফুটবল ম্যাচ, দেখুন একাদশ-দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- ঢাবি শিক্ষককে বিয়ে করলেন দীপ্তি চৌধুরী
- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ফুটবল ম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- আজ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন এখানে
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঢাবির এসএম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুস সালাম
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- ডিএসইতে রেকর্ড উত্থান, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে প্রত্যাশা