ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
রিজার্ভ কেলেঙ্কারিতে সাবেক তিন গভর্নরসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি ব্যাংকের বর্তমান ও সাবেক ১৭ কর্মকর্তা এবং ভারতীয় দুই নাগরিকসহ মোট ১৯ জনের তথ্য চেয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে। এতে তাদের পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, দায়িত্বের পরিধি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
এদের অনেকে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়িত্বে গাফিলতি ও নীতি শিথিলতার সুযোগে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের নজরদারিতে রয়েছেন।
তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর—ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদার। রিজার্ভ চুরির সময় দায়িত্বে ছিলেন আতিউর রহমান, যিনি ওই বছরের ১৫ মার্চ পদত্যাগে বাধ্য হন। এ ছাড়া সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, আবু হেনা মো. রাজী হাসান, এস এম মনিরুজ্জামান, কাজী ছাইদুর রহমান, আবু ফরাহ মো. নাছের ও আহমেদ জামাল—তাদের বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিএফআইইউর সাবেক প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহার নামও তালিকায় রয়েছে।
বর্তমান কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক ও আইসিটি বিভাগের দেবদুলাল রায়। মেজবাউল হক সম্প্রতি এক মাসের নোটিশে পদত্যাগ করেছেন। তালিকায় আরও রয়েছেন কমন সার্ভিস বিভাগ-২-এর পরিচালক মো. তফাজ্জল হোসেন, বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ও অফিসার্স কাউন্সিলের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, এবং আইসিটি বিভাগের মসিউজ্জামান খান ও রাহাত উদ্দিন। চিঠিতে মসিউজ্জামান খানের নাম দুইবার এসেছে—একবার অতিরিক্ত পরিচালক, আরেকবার উপপরিচালক হিসেবে। দুদকের মতে, দুজনই একই ব্যক্তি। তাদের মধ্যে মাসুম বিল্লাহ ছাড়া সবাই রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা–সংশ্লিষ্ট বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিউইয়র্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া দুই কোটি ডলার ফেরত পাওয়া যায়, আর ফিলিপাইনে যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেড় কোটি ডলার ফেরত আসে ২০১৬ সালের নভেম্বরে। এখনো ছয় কোটি ৬০ লাখ ডলার উদ্ধারে ফিলিপাইনে ১২টি মামলা চলমান। রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত চারটি বিভাগ হলো—ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট, আইটি, পেমেন্ট সিস্টেম ও অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং।
দুদকের চিঠিতে ভারতীয় নাগরিক নীলা ভান্নান ও রাকেশ আস্তানা–এর তথ্যও তলব করা হয়েছে। নীলা ভান্নান রিজার্ভ চুরির আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য তিনটি ব্যাংকের সুইফট সংযোগ স্থাপনের কাজ করেছিলেন। আর চুরির পর সাইবার নিরাপত্তা তদন্তে সহায়তার জন্য রিজার্ভ চুরির সময়ের গভর্নর ড. আতিউর রহমান নিয়োগ দেন রাকেশ আস্তানাকে, যিনি ফায়ারওয়াল ভেদ করে কীভাবে অর্থ স্থানান্তর হলো তা অনুসন্ধান করছিলেন।
এএসএম/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন শুরু
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়ের মৃ’ত্যু
- সকালে না রাতে, কখন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো?
- ৪৭তম বিসিএস ভাইভার সময়সূচি প্রকাশ
- স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল আজই
- স্কলারশিপ দিচ্ছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি
- বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষায় কড়াকড়ি, সিএমএসএফে নতুন সিদ্ধান্ত
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- লন্ডনে বৈশাখী উৎসব ঘিরে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে’র নতুন যাত্রা
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা