ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
জুলাই অভ্যুত্থান: আবেগ, সংগ্রাম ও জাতির ঐক্যের প্রতীক
জুলাই অভ্যুত্থান—শুধু একটি তারিখ নয়, একটি অধ্যায়। এটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ের গভীরে জাগ্রত এক চিরন্তন আবেগের নাম। যেভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতির গর্বের প্রতীক, তেমনই এই অভ্যুত্থান আমাদের জন্য আত্মত্যাগ, সাহস, এবং সংগ্রামের এক উজ্জ্বল ইতিহাস। আমরা এই স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই, বেঁচে থাকতে হবে, ইনশাআল্লাহ।
এই অভ্যুত্থান আমাদের জন্য ঠিক কতখানি আবেগের, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এটি অনুভব করতে হয়, উপলব্ধি করতে হয়। এর সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ ছিল গত ০৪/০১/২৫ তারিখে বিজয় একাত্তর হলে আয়োজিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী। পুরো হলরুম যেন এক গভীর আবেগের সাগরে নিমজ্জিত ছিল।
ডকুমেন্টারি চলাকালীন হলের পরিবেশ ছিল শান্ত, কিন্তু সেই নীরবতার মাঝেও কান্নার ফিসফিসানি শোনা যাচ্ছিল। এটি কোনো সাধারণ কান্না নয়, বরং এক অসীম ভালোবাসা, হার না মানা সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা, এবং এক ঐতিহাসিক সত্যের অনুভূতি। সেই মুহূর্তে আমার মনে হলো—এই অভ্যুত্থান কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এটি চিরস্থায়ী। এই বিপ্লবের চেতনা যুগ যুগ ধরে আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে আলো ছড়াবে, ইনশাআল্লাহ।
ডকুমেন্টারির মূল আকর্ষণ ছিল কোটা আন্দোলন থেকে শুরু করে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিক ছবি। বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আন্দোলন ও দমন-পীড়নের করুণ চিত্র অত্যন্ত আন্তরিকভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। দর্শকদের হৃদয় যেন সেই ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল।
ডকুমেন্টারির শেষ পর্যায়ে দেখানো হয় আসিফ মাহমুদ ভাইয়ের নেতৃত্বে ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক 'লং মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচির ভিডিও। তখন পুরো অডিটোরিয়াম নিঃশব্দ, সবাই মুগ্ধ হয়ে সেই সংগ্রামের চিত্র দেখছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটে এক আবেগঘন ঘটনা। হল মসজিদের ইমাম সাহেবের সাত বছরের ছেলে হঠাৎ করেই আনন্দে হাততালি দিয়ে ওঠে। তার সেই উচ্ছ্বাস যেন সমগ্র হলঘরের নীরবতাকে ভেঙে দিয়ে বিজয়ের আনন্দের সুর তুলে ধরেছিল। তার নিষ্পাপ উল্লাস আমাদের মনে করিয়ে দিল—জুলাই অভ্যুত্থানের বিজয় কেবল জেনারেশন-জেড-এর নয়; এটি সারা বাংলার মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, এবং আত্মত্যাগের প্রতীক।
জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে অন্যায়কে প্রতিরোধ করতে হয়, কীভাবে সাহসকে আলিঙ্গন করতে হয়। এটি কেবল ইতিহাস নয়, এটি জাতির ঐক্যের এক অমলিন প্রতিচ্ছবি। এই চেতনা বেঁচে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ইনশাআল্লাহ, এই বিজয়ের দীপ্ত আলো কখনো ম্লান হবে না।
(কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙাবন্দীশালায় ঐ শিকল ভাঙাতারা কি ফিরিবে আরতারা কি ফিরিবে এই সুপ্রভাতেযত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে।এসো স্বদেশব্রতের সহদীক্ষালোভীসেই মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণচুমি।যারা জীর্ণজাতির বুকে জাগালো আশামৌন মলিন মুখে জাগালো ভাষাআজি রক্তকমলে গাঁথা মাল্যখানিবিজয়লক্ষ্মী দেবে তাঁদেরি গলে।)
এমাদ উদ্দিন
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বিভাগ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- শনিবার ঢাকায় বন্ধ যেসব মার্কেট ও দোকানপাট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন