ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিতে চীনের উত্থানে নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন গভীর এবং বিস্তৃত। পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও টেলিকম অবকাঠামোতে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এই উত্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের রফতানি খাতের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির বেশিরভাগই চীন থেকে আসে। সিপিডির ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মূলধনি যন্ত্রপাতির উৎস হিসেবে চীন এখন জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্থান দখল করেছে। এতে বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চীনের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করছে।
অবকাঠামো ও টেলিকম খাতে চীনা প্রভাব:পদ্মা রেল সংযোগ, পায়রা বন্দর, কর্ণফুলী টানেলসহ ৩০টিরও বেশি অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, এই বিনিয়োগ অবকাঠামো ঘাটতি পূরণে সহায়ক হলেও ঋণের শর্ত ও প্রকল্পগুলোর টেকসইতা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। টেলিকম খাতেও হুয়াওয়ে ও জেডটিই-এর মতো চীনা কোম্পানিগুলোর সরঞ্জাম বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, যা 'স্মার্ট বাংলাদেশ' উদ্যোগেও গুরুত্বপূর্ণ।
বিনিয়োগে নতুন গতি ও জনমানসে প্রভাব:২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে চীনা বিনিয়োগ তিনগুণ বেড়েছে এবং প্রায় এক হাজার চীনা কোম্পানি গার্মেন্টস, নির্মাণ, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করছে। বিডার তথ্য অনুযায়ী, চীন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। জরিপে দেখা গেছে, ৭৫ শতাংশের বেশি বাংলাদেশি চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসায় চীনের প্রতি আগ্রহও বাড়ছে।
বাণিজ্য ভারসাম্য ও চ্যালেঞ্জ:বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্য সম্পর্ক ব্যাপক বৃদ্ধি পেলেও, তা এখনও একপাক্ষিক। ২০২২-২৩ অর্থবছরে চীন থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যেখানে বাংলাদেশের রফতানি ছিল মাত্র ৭১৫ মিলিয়ন ডলার। যদিও এই আমদানির বড় অংশই বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি, তবুও বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে রফতানির বৈচিত্র্য ও বাজার সম্প্রসারণে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও কূটনীতি:বাংলাদেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এ যুক্ত হওয়ার পর থেকে চীনা অর্থায়ন বহুগুণে বেড়েছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের চীন সফর বাংলাদেশের 'বহুমুখী কূটনীতি' নীতিরই প্রতিফলন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, পশ্চিমা চাপের বিপরীতে চীনের অ-হস্তক্ষেপমূলক সহযোগিতা ঢাকার কাছে কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা:চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ উভয়ই। রফতানি ঘাটতি, প্রযুক্তি-নির্ভরতা ও ঋণের টেকসইতা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, দক্ষ জনবল, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং শিল্প-বান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই সম্পর্ক থেকে সর্বোচ্চ সুফল পেতে পারে। সুশাসন ও দক্ষ পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে পারলে, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন শুরু
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ
- দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়ের মৃ’ত্যু
- সকালে না রাতে, কখন গোসল করা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো?
- ৪৭তম বিসিএস ভাইভার সময়সূচি প্রকাশ
- বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকের বর্ষবরণ ও বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত
- স্কলারশিপ দিচ্ছে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি
- বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষায় কড়াকড়ি, সিএমএসএফে নতুন সিদ্ধান্ত
- স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফল আজই
- দেশে সোনার দামে বড় পতন
- লন্ডনে বৈশাখী উৎসব ঘিরে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে’র নতুন যাত্রা
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা