ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৩ ভাদ্র ১৪৩২

ডাকসু নির্বাচনে জিতবে কে : ইশতেহার নিয়ে যা বললেন পিনাকী

ডুয়া নিউজ- কলাম
২০২৫ আগস্ট ২৯ ০০:১৫:২৬
ডাকসু নির্বাচনে জিতবে কে : ইশতেহার নিয়ে যা বললেন পিনাকী

আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংগঠনগুলোর ঘোষিত ইশতেহারের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অ্যাক্টিভিটিস পিনাকী ভট্টাচার্য। তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যান্টিন, আবাসন ও অন্যান্য স্থানীয় সমস্যার মধ্যে তাদের দাবি সীমাবদ্ধ রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সংকটকে এড়িয়ে যাচ্ছে। তার মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল সংকট হলো ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, দলীয়করণে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির মতো গভীর সমস্যা। তিনি এসব সমস্যা মোকাবেলায় একটি বিপ্লবী বিকল্প ইশতেহারও প্রস্তাব করেছেন।

প্রচলিত ইশতেহারের অন্তঃসারশূন্যতা

পিনাকী ভট্টাচার্য তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, এবারের ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় সব প্যানেলের ইশতেহারেই শতভাগ আবাসন নিশ্চিতকরণ, গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি বন্ধ এবং ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নয়নের মতো দাবিগুলোই ঘুরেফিরে আসছে। তিনি বলেন, এই দাবিগুলো শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর সংকটকে স্পর্শ করতে ব্যর্থ হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তিনি ছাত্রশিবিরের ইশতেহারে রাতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি চিকিৎসার দাবিকে "ফালতু" বলে আখ্যায়িত করেন। তার যুক্তি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বারডেম ও পিজি হাসপাতালের মতো দেশের সেরা তিনটি হাসপাতাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাতেই অবস্থিত। তাই নতুন কেন্দ্র স্থাপনের বদলে এই হাসপাতালগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে একটি বিশেষায়িত ‘স্টুডেন্ট ওয়ার্ড’ চালু করা অনেক বেশি বাস্তবসম্মত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সংকট: ফ্যাসিবাদ ও অ্যাকাডেমিক অবক্ষয়

পিনাকী ভট্টাচার্যের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফ্যাসিবাদের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ফ্যাসিবাদী কাঠামো তৈরিতে এর শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীরাই মূল ভূমিকা পালন করেছেন। দলীয় বিবেচনায় হাজার হাজার অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক পরিবেশ ধ্বংস হয়েছে। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি বা প্লেজিয়ারিজম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একাধিক শিক্ষকের পিএইচডি ডিগ্রি পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছে। এই গভীর সংকটগুলোই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা, যা কোনো ছাত্র সংগঠনের ইশতেহারে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়নি।

বিকল্প ইশতেহার: পরিবর্তনের ডাক

এই অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পিনাকী ভট্টাচার্য একটি বিকল্প ইশতেহারের রূপরেখা দিয়েছেন, যা কেবল ডাকসু নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। তার প্রস্তাবিত ইশতেহারের মূল স্লোগান— "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফ্যাসিবাদমুক্ত করো, শিক্ষার স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনো।"

বিকল্প ইশতেহারের প্রধান দফাগুলো হলো:

ফ্যাসিবাদবিরোধী এজেন্ডা: বিশ্ববিদ্যালয়কে ফ্যাসিবাদের প্রভাবমুক্ত করা এবং দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত অযোগ্য শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকা প্রকাশ করে অপসারণের দাবি তোলা।

শিক্ষা ও শিক্ষকতা সংস্কার: শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধে "টার্নিটিন" (Turnitin) সফটওয়্যার চালু করা।

গবেষণা ও উদ্ভাবন: বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের (Alumni) সহযোগিতায় "ঢাবি ইনোভেশন ট্রাস্ট" গঠন করে গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধি করা।

শিক্ষার্থী কল্যাণ: জাতীয় পর্যায়ে "স্টুডেন্ট টাউনশিপ" গড়ে তোলা এবং প্রধান হাসপাতালগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালুর দাবি।

স্বচ্ছতা ও প্রশাসন: "ডিজিটাল ডাকসু" প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকল আয়-ব্যয় অনলাইনে প্রকাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

পিনাকী ভট্টাচার্য জোর দিয়ে বলেন, যে প্যানেল এই বিপ্লবী ইশতেহার নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে যাবে, তাদের বিজয় নিশ্চিত। তিনি মনে করেন, ডাকসু নির্বাচনকে শুধু ক্যান্টিন বা হলের সমস্যা সমাধানের মঞ্চ না ভেবে ফ্যাসিবাদমুক্ত এবং জ্ঞানভিত্তিক একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ের সূচনাক্ষেত্র হিসেবে দেখতে হবে। তার মতে, এই ইশতেহার কেবল ডাকসু নির্বাচন নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত