ঢাকা, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২
মার্জারের দুই ব্যাংকে ফেঁসে গেল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও
মোবারক হোসেন
সিনিয়র রিপোর্টার
মোবারক হোসেন: মার্জারের তালিকায় থাকা ৫টি ব্যাংকের মধ্যে দুটি ব্যাংকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার যথেষ্ট বেশি থাকার কারণে এখন উদ্বেগে রয়েছে। এই দুটি ব্যাংক হলো গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৫২.৫৭ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ছিল ৫৩.৫৪ শতাংশ। সেই সময় ব্যাংকটির শেয়ার দাম ছিল ৫ টাকা ৪০ পয়সা। বর্তমান ব্যাংকটির শেয়ার মূল্য দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ টাকা ৯০ পয়সায়, যা প্রায় ৬৫ শতাংশ কম। ব্যাংকটির মোট শেয়ার সংখ্যা হলো ৯৮ কোটি ৭৪ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮৮টি।
অন্যদিকে, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৬৯.২০ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের শেষে ছিল ৬৫.৮২ শতাংশ। সেই সময়ে শেয়ারের দাম ছিল ৮ টাকা ৮০ পয়সা। বর্তমানে শেয়ার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৭০ পয়সায়, যা প্রায় অর্ধেক। ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ১১৪ কোটি ১ লাখ ৫৫ হাজার ১০০টি।
শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমার ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজার মূল্য অনুযায়ী বড় ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে। মার্জারের বিষয়টি নতুন শেয়ারদরকে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ব্যাংকগুলোর অতীত পারফরম্যান্স ও বর্তমান বিনিয়োগের ঝুঁকি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, মার্জারের প্রক্রিয়ায় থাকা ৫ ব্যাংকের মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে উদ্যোক্তাদের কাছে রয়েছে ৫.৯০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৮.৭০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ০.২৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬৫.১৩ শতাংশ শেয়ার।
এক্সিম ব্যাংকে উদ্যোক্তাদের কাছে রয়েছে ৩২.৪৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৭.৬৫ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ০.৬৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৯.২৮ শতাংশ শেয়ার।
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে উদ্যোক্তাদের কাছে রয়েছে ১৫.৪৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫২.৯৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩১.৬১ শতাংশ।
সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকে উদ্যোক্তাদের কাছে রয়েছে ১১.৬২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬৯.২০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ০.৮৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৮.৩১ শতাংশ শেয়ার।
ইউনিয়ন ব্যাংকে উদ্যোক্তাদের কাছে রয়েছে ৫৪.৪৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৩.৬৯ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ০.০১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩১.৮১ শতাংশ শেয়ার।
ব্যাংক ৫টির মার্জার পরিস্থিতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শেয়ারের দাম হঠাৎ কমার কারণে অনেক বিনিয়োকারী প্রায় নিঃস্ব হওয়ার পথে রয়েছেন। সাধারণ বিনিয়োগকারী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী শেয়ার কিনেছিলেন, কিন্তু বর্তমান বাজারের অস্থিরতা ও মার্জারের প্রভাবে তাদের বিনিয়োগ প্রায় নিঃশেষ হয়ে গেছে। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উভয়েই আর্থিক চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- স্বামী ও সন্তানকে ঘরে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্ম/হত্যা
- ঈদের তারিখ চূড়ান্ত করল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি
- সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে, যা জানা গেল
- আপত্তিকর ভিডিও বিতর্কে হাতিয়ার ইউএনওকে ওএসডি
- ফুলবাড়ীয়ায় প্রবাসীদের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ
- শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গুলি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৭ মার্চ)
- ঈদ সালামি কত টাকা দেবেন?
- তিন দেশে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হলেন ড. ওবায়দুল ইসলাম
- ইউজিসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন ঢাবি'র নতুন ভিসি
- মধ্যরাতের আগেই ঝড়ের শঙ্কা চার অঞ্চলে
- গুঞ্জন উড়িয়ে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু