ঢাকা, বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২

গণভোটের প্রচারে ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিচ্ছে ৬ মন্ত্রণালয়

২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ২০:৪৩:৩৯

গণভোটের প্রচারে ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিচ্ছে ৬ মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে আয়োজিত গণভোটের প্রস্তুতিতে সরকারের নির্বাচনী ব্যয় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর আয়োজিত গণভোটের প্রচার কার্যক্রম চালাতে এবার ছয়টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রায় ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিচ্ছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাজেট শাখা থেকে এই খরচের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজেট শাখার তথ্য অনুযায়ী, গণভোটের প্রচার ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ নিচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), যার পরিমাণ ৭২ কোটি টাকা। এরপরই রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, যারা প্রচারের জন্য ৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে রয়েছে:

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়: ৭ কোটি টাকা।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়: ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়: ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা (অনুমোদনের অপেক্ষায়)।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়: ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা (অনুমোদনের অপেক্ষায়)।

এই ছয় মন্ত্রণালয় ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব জনসংযোগ শাখা গণভোটের প্রচারের জন্য আলাদাভাবে ৪ কোটি টাকা ব্যয় করছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের জন্য মোট ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেছনে এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য ব্যয় হবে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানান, শুরুতে জাতীয় নির্বাচনের জন্য ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীতে সরকার একই দিনে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অতিরিক্ত ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন মূলত ব্যালট পেপার, কর্মী নিয়োগ, যাতায়াত ও নির্বাচনী সামগ্রী বাবদ খরচ করছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র (NOC) অনুযায়ী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় গণভোটের প্রচারের জন্য কমিশন থেকে অর্থ বরাদ্দ নিয়েছে। তারা এই অর্থ কীভাবে বা কাদের মাধ্যমে ব্যয় করছে, সে বিষয়ে আমাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একই দিনে দুই ধরণের ভোট হওয়ায় যেমন জটিলতা বেড়েছে, তেমনি প্রচার-প্রচারণার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে বিশাল অঙ্কের অর্থ দেওয়া নির্বাচনী ব্যয়ের ইতিহাসে একটি নতুন দৃষ্টান্ত।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত