ঢাকা, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

ভাড়া বাসা থেকে জাবি ছাত্রীর ক্ষত-বিক্ষত লা-শ উদ্ধার

২০২৬ মার্চ ১৫ ২১:০৪:১৮

ভাড়া বাসা থেকে জাবি ছাত্রীর ক্ষত-বিক্ষত লা-শ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সবুজ ক্যাম্পাসে আজ বিষাদের কালো ছায়া নেমে এসেছে। ক্যাম্পাস সংলগ্ন ইসলামনগরের একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী শারমিন জাহানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্নসহ উদ্ধার হওয়া এই মৃত্যু নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য, যা প্রাথমিকভাবে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রবিবার (১৫ মার্চ) বিকেলে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি জানাজানি হয়। নিহতের স্বামী ফাহিম আল হাসানের ভাষ্যমতে, দুপুর ২টার পর তিনি বাসায় ফিরে দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় পান। ভেতরে প্রবেশ করে তিনি মেঝেতে শারমিনকে নিথর ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে বাড়িওয়ালার সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শারমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই মৃত্যুকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) জিএস মাজহারুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন, শারমিনের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং উদ্ধারকালীন পরিস্থিতি ছিল অস্বাভাবিক। এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিয়ে তিনি গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে উপস্থিত হন। প্রক্টর রাশিদুল আলম জানান, শিক্ষার্থীকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে আনা হয়েছিল। সেখান থেকেই মূলত বিষয়টি জানাজানি হয়। তিনি আরও বলেন, "তদন্তের স্বার্থে সাভার ও আশুলিয়া থানাকে তাৎক্ষণিক অবহিত করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।"

এদিকে পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশের একটি দল ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি কোনো দুর্ঘটনা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত