ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
জাহাজ ক্রয়ে ৪৮৬ কোটি টাকার অসংগতি, তদন্তে দুদক
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সমুদ্রবন্দর ও রাষ্ট্রীয় শিপিং খাতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, চুক্তি এবং নিয়োগ কার্যক্রমে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই শুরু করেছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে ঘিরে উত্থাপিত একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১১ জানুয়ারি কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে ৫ মার্চ চার সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুদকের উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন উন্মুক্ত তথ্যসূত্র, সরকারি-বেসরকারি নথিপত্র, অভ্যন্তরীণ রেকর্ড এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগত সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু অসঙ্গতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশ কয়েকটি প্রকল্প, চুক্তি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, কাঠামোগত অনিয়ম এবং অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠে এসেছে।
প্রাথমিক পর্যালোচনায় আরও ধারণা পাওয়া গেছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এসব অনিয়মের সূত্র মিললেও অনুসন্ধান বিস্তৃত হলে প্রভাবশালী সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পরোক্ষ সম্পৃক্ততার বিষয়ও সামনে আসতে পারে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মুনিরুজ্জামান পূর্বে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চীন থেকে জাহাজ ক্রয়ের একটি বড় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই প্রকল্পে প্রায় দুই হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি জাহাজ কেনার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত একই অর্থে চারটি জাহাজ কেনা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসংগতির বিষয়টি আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
এ ছাড়া অপরিশোধিত তেল পরিবহনের একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতেও বাজারদরের তুলনায় প্রতি টনে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৫০ মার্কিন ডলার বেশি পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে। এতে বছরে কয়েক শ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের আশঙ্কার কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব প্রকল্প ও চুক্তি থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বেনামি সম্পদ কেনা এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবাসিক সম্পদ কেনার তথ্যও প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
দুদক সূত্র বলছে, প্রাথমিক বিশ্লেষণে বিষয়টি বিচ্ছিন্ন অনিয়মের ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না; বরং এটি দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা একটি জটিল আর্থিক ব্যবস্থার অংশ হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, চুক্তি, নিয়োগ কার্যক্রম এবং অর্থের উৎস ও লেনদেনের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালানো হবে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন জেমস
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- শতবর্ষী ৮০৮ স্কুল-কলেজের তালিকা করল মাউশি
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- আত্মহ/ত্যার আগে যা লিখেছিলেন এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী
- ঢাবিতে ৮ম কুইজ ফেস্ট ও ফ্রেশার্স রিসেপশন অনুষ্ঠিত
- নতুন পে স্কেলের বাইরে থাকছেন যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী
- আবারও লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের
- ঢাবির ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি