ঢাকা, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

ফেসবুকে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টার আবেগঘন পোস্ট

২০২৬ মার্চ ১৫ ২২:৪৩:৫২

ফেসবুকে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টার আবেগঘন পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রশাসনিক পদের গাম্ভীর্য ছাপিয়ে এক অনন্য মানবিক সম্পর্কের গল্প তুলে ধরেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। দীর্ঘ ১৮ মাস রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পর বিদায়বেলায় তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা তাঁকে গভীরভাবে আবেগপ্লুত করেছে। রোববার (১৫ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ ও মর্মস্পর্শী পোস্টে তিনি তাঁর এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ড. খালিদ হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। পরবর্তী কয়েক দিন দাপ্তরিক কাজ গুছিয়ে নিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি সরকারি বাসভবন ‘কলতান’ পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেন। ওই দিনই তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। ফেলে আসা সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি লেখেন, ‘প্রশাসনিক দায়িত্বের সমাপ্তি যেন একটি অধ্যায়ের অবসান। তবে সেই অবসানের মধ্যেই নানা স্মৃতি ও অনুভূতির ঢেউ জেগে ওঠে।’

উপদেষ্টা থাকাকালীন তাঁর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবসময় ১২ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। এঁদের মধ্যে ছয়জন বাসভবনে এবং বাকি ছয়জন সার্বক্ষণিক তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে কাজ করতেন। দীর্ঘ দেড় বছর ছায়ার মতো পাশে থাকা এই বাহিনীর সদস্যদের সাথে তাঁর কেবল পেশাদারিত্বের সম্পর্ক থাকেনি, বরং গড়ে উঠেছিল এক অদৃশ্য পারিবারিক টান। খালিদ হোসেনের ভাষায়, ‘কর্তব্যের সম্পর্ক কখন যে নিঃশব্দে হৃদয়ের বন্ধনে রূপ নেয়, বিদায়ের সেই দৃশ্য যেন তারই এক নীরব সাক্ষ্য হয়ে থাকে।’

বিদায়ের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ড. খালিদ হোসেন স্মৃতিচারণ করে জানান, বিদায় দেওয়ার সময় সেই শক্তপোক্ত পুলিশ সদস্যদের চোখের কোণে জল চিকচিক করছিল, যা তাঁকে স্তম্ভিত করে দেয়। তিনি লেখেন, জীবনের দীর্ঘ পথচলায় হয়তো আর কোনোদিন তাঁদের সাথে দেখা হবে না, কিন্তু ‘তাদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা এবং নীরব সেবার স্মৃতি তার হৃদয়ে দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে।’

সবশেষে এক গভীর জীবনদর্শন তুলে ধরে সাবেক এই উপদেষ্টা মন্তব্য করেন যে, মানুষের জীবনে উচ্চপদ বা ক্ষমতার চেয়েও সম্পর্কের উষ্ণতাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পাওনা হিসেবে টিকে থাকে। তাঁর এই ফেসবুক পোস্টটি নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যেখানে অনেকেই পদ ও পদবির বাইরে মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধের এই নজিরকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত