ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২
সাইবার নিরাপত্তা: ডিজিটাল যুগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

ডিজিটাল প্রযুক্তির উন্নতি মানুষের জীবনকে বদলে দিয়েছে দ্রুততম গতিতে। এখন ব্যাংকিং লেনদেন, কেনাকাটা, শিক্ষালাভ, চাকরির আবেদন কিংবা সরকারি নানা সেবা সবই সম্ভব হচ্ছে মাত্র কয়েক ক্লিকের মাধ্যমে। ঘরে বসেই মানুষ মোবাইল ব্যাংকিং করছে, অনলাইন শপিং করছে, এমনকি স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে কৃষি পরামর্শ পর্যন্ত পাচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। এই পরিবর্তন আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি এনেছে এক নতুন ঝুঁকিও সাইবার অপরাধ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির ইতিবাচক দিক যত দ্রুত বিস্তার লাভ করছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধীদের কৌশলও। এখন আর ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের জন্য অস্ত্র হাতে নামতে হয় না, বরং একজন দক্ষ হ্যাকার ঘরে বসেই কয়েক মিনিটের মধ্যে লাখো টাকার ক্ষতি করতে সক্ষম। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি, মোবাইল ওয়ালেট হ্যাক, ফেসবুক বা ইমেইল একাউন্ট দখল, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা সবই আজকাল প্রতিদিনকার ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়েই নয়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও সাইবার হামলা এক বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন বিমানবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সরকারি ওয়েবসাইট বা সামরিক তথ্যভান্ডারে নিয়মিত হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে হ্যাকার চক্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় বড় কোম্পানি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ডেটা চুরি হয়ে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। আমাদের দেশের ব্যাংকিং খাত, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং এমনকি ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীর তথ্যও সাইবার অপরাধীদের টার্গেটে রয়েছে। তাই সাইবার নিরাপত্তা এখন আর কেবল প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা কিছু সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। যেমন—
১) নিয়মিত সফটওয়্যার ও সিকিউরিটি সিস্টেম আপডেট করা,
২) জটিল ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা,
৩) দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Two-Factor Authentication) চালু রাখা,
৪) অচেনা লিংক বা ইমেইলে ক্লিক না করা,
৫) এবং অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা।
এসব সহজ নিয়ম মানলে সাইবার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তবে শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সচেতনতা যথেষ্ট নয়। একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য এখন অনেক দেশেই বিশেষজ্ঞ সাইবার নিরাপত্তা বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ক কোর্স চালু করা হয়েছে।
বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নতুন কোর্স চালু করা, তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া—এসব উদ্যোগের মাধ্যমে একটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে ডিজিটাল অর্থনীতিকে নিরাপদ রাখা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আর এজন্য সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- তিন কোম্পানির কারখানা বন্ধ, ক্ষোভ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের
- আইসিবি’র বিশেষ তহবিলের মেয়াদ ২০৩২ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি
- কেয়া কসমেটিক্সের ৮ হাজার কোটি টাকা উধাও, চার ব্যাংককে তলব
- সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে শেয়ারবাজারের খান ব্রাদার্স
- মূলধন ঘাটতিতে দুই ব্রোকারেজ হাউজ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- দুই খবরে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারের চমক
- চলতি বছর শেয়ারবাজারে আসছে রাষ্ট্রায়াত্ব দুই প্রতিষ্ঠান
- সাকিবের মোনার্কসহ ৮ ব্রোকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
- ২৩ আগস্ট : শেয়ারবাজারের সেরা ৮ খবর
- হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রতারণা, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই
- বিএসইসির নতুন মার্জিন বিধিমালার খসড়া অনুমোদন
- বিমা আইন সংস্কার: বিনিয়োগ ও আস্থায় নতুন দিগন্ত
- কোম্পানির অস্বাভাবিক শেয়ারদর: ডিএসইর সতর্কবার্তা
- শেয়ারবাজারের জন্য সুখবর: কমছে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ
- তালিকাভুক্ত কোম্পানির ১৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা