ঢাকা, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বোনাস অনুমোদনে দ্বিমুখী নীতি, প্রশ্নের মুখে বিএসইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বোনাস ডিভিডেন্ড অনুমোদন ঘিরে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। একই ধরনের অডিট আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কিছু কোম্পানিকে বোনাস শেয়ার ইস্যুর অনুমতি দেওয়া হলেও অন্যদের প্রস্তাব বাতিল হওয়ায় বাজারে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে।
সর্বশেষ সিদ্ধান্তে বিএসইসি হিমাদ্রি লিমিটেড ও কেঅ্যান্ডকিউ (বাংলাদেশ)-এর বোনাস ডিভিডেন্ড প্রস্তাব নাকচ করেছে। হিমাদ্রি ১০০ শতাংশ এবং কেঅ্যান্ডকিউ ৬ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছিল। কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পর্যাপ্ত পুঞ্জীভূত মুনাফার ঘাটতি এবং ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক বিবরণীতে গুরুতর অডিট আপত্তি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থায়ী সম্পদের হিসাব, ভ্যাট জমা ও শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল সংক্রান্ত ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ না করার অভিযোগও উল্লেখ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে কেঅ্যান্ডকিউ জানিয়েছে, তারা সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিএসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আর্থিক স্বচ্ছতা জোরদার করতে ত্রুটিপূর্ণ আর্থিক প্রতিবেদন থাকা কোম্পানিগুলোকে বোনাস ডিভিডেন্ড দেওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। যদিও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর কিছু ফাঁকফোকরের কারণে সব ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক নয়। প্রচলিত নিয়মে, কোনো কোম্পানি যদি আগের দুই অর্থবছরে অন্তত ১০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দেয়, তাহলে বোনাস বা স্টক ডিভিডেন্ড দিতে তাদের কমিশনের আগাম অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না।
এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনডেক্স অ্যাগ্রো, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ও লাভেলো আইসক্রিমের মতো কোম্পানি অডিট আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। এতে বাজারে প্রশ্ন উঠেছে—একই মানদণ্ডে সব কোম্পানির ক্ষেত্রে নিয়ম প্রয়োগ হচ্ছে কি না।
আরও বিস্ময় তৈরি করেছে এমন কয়েকটি উদাহরণ, যেখানে অডিট রিপোর্টে নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ থাকা সত্ত্বেও সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, মামুন অ্যাগ্রো ও কাসেম ইন্ডাস্ট্রিজ বিএসইসির কাছ থেকে বোনাস শেয়ার ইস্যুর অনুমতি পেয়েছে। বিপরীতে, আছিয়া সি ফুড ও বিডিকম অনলাইনের মতো কোম্পানির আবেদন এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত ও নিয়মের শিথিল প্রয়োগ শেয়ারবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা। তাদের আশঙ্কা, নিয়ম প্রয়োগে অভিন্ন ও নিরপেক্ষ অবস্থান না থাকলে বাজারে আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত হবে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি বাড়াবে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পে স্কেল নিয়ে ৭ দাবি সরকারি কর্মচারীদের
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখুন এখানে
- প্রথমবারের মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য পেলো কুবি
- শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ
- ৫৪ জেলায় টিসিবির ডিলার নিয়োগ, আবেদন শুরু ১০ মে
- পে স্কেলের প্রস্তাবিত গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- ঢাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল
- রবির মুনাফায় আকাশচুম্বী প্রবৃদ্ধি, ব্যাকফুটে শিপিং কর্পোরেশন
- বাংলাদেশিদের স্কলারশিপ দেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিমন্স ইউনিভার্সিটি, আবেদন শুরু
- আজ সন্ধ্যায় সাদিক কায়েমের বিয়ে
- ঈদকে সামনে রেখে মুনাফা তুলছেন বিনিয়োগকারীরা
- পদত্যাগ করলেন ঢাবি শিক্ষক মোনামি
- এমপিও শিক্ষকদের ঈদ বোনাস কবে, যা জানা গেল
- ঢাকাসহ ১৭ জেলায় রাতের ঝড়ের সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর
- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ চেয়ারম্যান ও ৭ ডিনের পদত্যাগ, নেপথ্যে কী?