ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২

সংস্কার ও স্থিতিশীলতার পথে শেয়ারবাজার: মুদ্রানীতি প্রতিবেদনে আশাবাদ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ০৬:৫৭:১৭

সংস্কার ও স্থিতিশীলতার পথে শেয়ারবাজার: মুদ্রানীতি প্রতিবেদনে আশাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিজিটাল ও কাঠামোগত সংস্কারের প্রভাবে দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। তবে এই ইতিবাচক ধারা টেকসই করতে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার প্রকাশিত ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন মেয়াদের মুদ্রানীতি প্রতিবেদনে (মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬-এর প্রথমার্ধে শেয়ারবাজারে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও সামগ্রিক প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে লেনদেনের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি বাজারে গতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এই প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে দেশের প্রধান শেয়ার সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৪,৮৩৮ পয়েন্টে, যা ডিসেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৮৬৫ পয়েন্টে—অর্থাৎ প্রায় ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এই ইতিবাচক গতি পরবর্তী সময়েও অব্যাহত থাকে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে সূচকটি ৫,২০০ পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানায়, গত অর্থবছরে যেখানে গড় দৈনিক লেনদেন ছিল ৪৭২ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে তা বেড়ে ৬৫০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই প্রবৃদ্ধিকে বাজারে বিনিয়োগকারীদের বাড়তে থাকা আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শেয়ারবাজারকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে সরকার একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে বহুজাতিক কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার মালিকানা হ্রাস, দেশীয় শক্তিশালী কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহ প্রদান, বাজার কারসাজি প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগবান্ধব কর সুবিধা অন্যতম। এসব পদক্ষেপ বাজারের কাঠামোগত উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু এবং ব্লকচেইনভিত্তিক ব্যাক-অফিস ব্যবস্থার প্রবর্তন বাজারে স্বচ্ছতা বাড়াবে। পাশাপাশি একটি কার্যকর বন্ড মার্কেট গড়ে তুলতে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাজারে স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে ‘মার্জিন রুলস ২০২৫’ মার্জিন লেনদেনের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড ও পাবলিক ইস্যু বিধিমালার প্রস্তাবিত হালনাগাদগুলো বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে ‘শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল’ গঠনকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বন্ড মার্কেট প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেকেন্ডারি মার্কেটে ২৩২টি সরকারি ট্রেজারি বন্ড সক্রিয়ভাবে লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে সরকার ছয়টি বিনিয়োগ সুকুকের মাধ্যমে ২৪০ বিলিয়ন টাকা সংগ্রহ করেছে, যা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

সেকেন্ডারি বন্ড মার্কেটকে আরও কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে প্রাইমারি ডিলারদের প্রতিটি কার্যদিবসের প্রথম ঘণ্টায় ট্রেজারি বন্ডের জন্য দুই-মুখী (ক্রয় ও বিক্রয়) দর প্রদানের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত