ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
সীমান্তে তীব্র সংঘাত, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা
এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বিরোধপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলে টানা দুই দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে ভারী অস্ত্রশস্ত্র, এমনকি বিমান হামলার অভিযোগ তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সংঘাত চলতে থাকলে তা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ শুক্রবারেও গড়ায়, যেখানে রকেট নিক্ষেপ ও বিমান হামলার মতো ঘটনাও ঘটে। থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, "এই সংঘাত যুদ্ধে মোড় নিতে পারে।" তিনি কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে ভারী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনেন। অন্যদিকে, কম্বোডিয়া পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে যে, থাইল্যান্ড তাদের ভূখণ্ডে নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ করেছে।
সংঘাতের নেপথ্যে কী?
এই উত্তেজনার শুরু হয়েছিল গত মে মাসে, যখন থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওস সীমান্তের সংযোগস্থল ‘এমেরাল্ড ট্রায়াঙ্গল’ অঞ্চলে দুই দেশের সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষে এক কম্বোডীয় সৈন্য নিহত হন। সে সময় উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর কথা বললেও বাস্তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়াতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় কম্বোডিয়ার সঙ্গে থাকা সীমান্ত চেকপয়েন্টগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় থাইল্যান্ড এবং পারাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এমনকি কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দেওয়া হয়। এর জবাবে, কম্বোডিয়া থাইল্যান্ড থেকে ফল ও সবজি আমদানি এবং থাই সিনেমা ও নাটকের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে এই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করে সীমান্তে কয়েকটি স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা। গত ১৬ জুলাই এক বিস্ফোরণে থাইল্যান্ডের এক সেনা পা হারান। এরপর গত বুধবারের বিস্ফোরণে আরও পাঁচ থাই সেনা আহত হন, যাদের মধ্যে একজনের পা উড়ে যায়। এই ঘটনার পরই বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে এবং দুই দেশের মধ্যে পুরোদমে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এই সীমান্ত সংকট থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেও প্রভাবিত করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন শিনাওয়াত্রাকে গত ১ জুলাই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনের সঙ্গে এক ফাঁস হওয়া ফোনালাপে তিনি নিজ দেশের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেছিলেন। এই ঘটনা থাইল্যান্ডের সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যেকার মতপার্থক্য সামনে এনেছে, যা ৩৮ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ফের বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল
- ঢাবিতে গ্রিন নেক্সাস কর্মসূচি সমাপ্ত
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ