ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
নতুন লড়াইয়ে ভারত-পাকিস্তান!
গত ৮ মে রাত ৮টার পর ভারতের জম্মু অঞ্চলের আকাশে হঠাৎই লাল আলোর ঝলকানি দেখা যায়। পরে জানা যায় পাকিস্তান থেকে পাঠানো ড্রোনগুলো ভূপাতিত করতে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে হামলা চালায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো এশিয়ার এই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ সরাসরি সংঘর্ষে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। মে মাসের চার দিনের এই সংঘাতে ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে একটি নতুন যুদ্ধ কৌশল মঞ্চে আসে।
সংঘাত শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে গড়ালেও দুই দেশই এখন ড্রোন প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে শুরু করেছে। রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে ভারত ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকসহ ১৫ জন বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে দুই দেশই নতুন করে ড্রোন প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ড্রোন প্রযুক্তিতে স্থানীয় শিল্পে ৪৭ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে যা পূর্বের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। ভারতের ড্রোন ফেডারেশনের স্মিত শাহ জানান, ৫৫০টিরও বেশি কোম্পানি এই শিল্পে অংশ নিতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
এছাড়া চলতি মাসেই ভারতের সরকার সামরিক ক্রয়ের জন্য ৪৬০০ কোটি ডলার জরুরি ভিত্তিতে বরাদ্দ দিয়েছে। এই অর্থের একটি বড় অংশ নজরদারি এবং আক্রমণাত্মক ড্রোন ক্রয়ে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আইডিয়াফোর্জ টেকনোলজির ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশাল সাক্সেনা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছিল। তবে এবার সরকার দ্রুতগতিতে ড্রোন নির্মাণ এবং পরীক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানও যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ড্রোন ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাকিস্তান চীন এবং তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে ড্রোন প্রযুক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তুরস্কের বেকার কোম্পানির তৈরি ইহা-৩ ড্রোন পাকিস্তানের ড্রোন উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের স্থানীয় কারখানাগুলো মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একটি ড্রোন তৈরি করতে সক্ষম। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কিংবা ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এ প্রসঙ্গে লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ওয়াল্টার লার্ডভিগ তৃতীয় বলেন, ভারত ও পাকিস্তান সম্ভবত বড় সংঘাত উস্কে না দিয়ে সীমিত পর্যায়ে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করছে।
এবারের সংঘাত হয়তো থেমে গেছে কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে ‘ড্রোন যুদ্ধ’ যে আরও উত্তপ্ত হতে যাচ্ছে তা এখন প্রায় নিশ্চিত।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন জেমস
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- শতবর্ষী ৮০৮ স্কুল-কলেজের তালিকা করল মাউশি
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- আত্মহ/ত্যার আগে যা লিখেছিলেন এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী
- ঢাবিতে ৮ম কুইজ ফেস্ট ও ফ্রেশার্স রিসেপশন অনুষ্ঠিত
- নতুন পে স্কেলের বাইরে থাকছেন যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী
- আবারও লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের
- ঢাবির ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি