ঢাকা, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২
সীমান্তে সর্ববৃহৎ বিমানঘাঁটি বানাচ্ছে ভারত
চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। লাদাখের মুধ-নিওমায় গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ এবং কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩,৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ঘাঁটিটি অক্টোবরের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা সংস্থা।
নিওমা ঘাঁটিটি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) থেকে মাত্র ৪৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই দূরত্ব একে ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা বিমানঘাঁটিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলেছে। ২.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ শক্তিশালী রানওয়ে বিশিষ্ট এই ঘাঁটি থেকে নিয়মিত উড়তে পারবে সুখোই-৩০ এমকেআই, রাফাল, তেজস এবং সি-১৩০জে ও এন-৩২ ধরনের পরিবহন বিমান।
কৌশলগত গুরুত্ব ও সামরিক সুবিধা:
নিওমা বিমানঘাঁটি নির্মাণের ফলে সীমান্ত এলাকায় দ্রুত সেনা মোতায়েন, অস্ত্র সরবরাহ এবং নজরদারির কাজ আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হবে। লাদাখের দুর্গম ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিতে স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় বিমানঘাঁটিটি ভারতীয় বিমানবাহিনীকে (আইএএফ) অতুলনীয় সুবিধা দেবে।
২০২১ সালে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির বাজেট প্রায় ২১৪ কোটি টাকা। এখানে রাডার স্টেশন, রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিট, বিমানবাহিনীর সদস্যদের আবাসনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ চলছে। নির্মাণকাজের তত্ত্বাবধানে থাকা সীমান্ত সড়ক সংস্থার (বিআরও) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল রঘু শ্রীনিবাসন জানিয়েছেন কাজ অক্টোবরের মধ্যেই শেষ হবে।
চীনের উদ্বেগ ও ভারতের প্রতিক্রিয়া:
চীন নিওমা ঘাঁটির নির্মাণে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও ভারত তাদের চাপ উপেক্ষা করে দ্রুত গতিতে কাজ চালিয়ে গেছে। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চীনের সেনা উপস্থিতি বাড়ার পর সীমান্তে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ভারতও সীমান্তে সেনা সংখ্যা বৃদ্ধি করে। সেই সময় থেকেই নিওমা ঘাঁটিকে কার্যকর রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেয় নয়াদিল্লি।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেপসাং ও দেমচোক অঞ্চলে ভারত-চীন সেনা বিচ্ছিন্নতার (ডিসএনগেজমেন্ট) প্রেক্ষাপটে নিওমার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
নিওমা ছাড়াও বর্তমানে লাদাখে লেহ, কার্গিল ও থোইস–এই তিনটি কার্যকর বিমানঘাঁটি রয়েছে। পাশাপাশি দৌলত বেগ ওল্ডি, ফুকচে ও চুশুলে রয়েছে ছোট আকারের রানওয়ে। তবে নিওমা ঘাঁটি হবে সবচেয়ে আধুনিক ও কার্যকর যেখানে যুদ্ধকালীন সময়েও বিভিন্ন ধরণের সামরিক অভিযান চালানো যাবে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সীমান্তের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সড়কপথে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। অনেক দুর্গম সামনের পোস্ট যেগুলোতে কেবল পায়ে হেঁটে পৌঁছানো যেত। এখন সেগুলোকেও রাস্তার সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে।
এই উন্নয়ন ভারতীয় সেনাবাহিনীর চলাচল, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং সীমান্ত নজরদারিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। চীনের প্রতিটি সীমান্তবর্তী বিমানঘাঁটি আধুনিকায়নের প্রতিক্রিয়ায় ভারতও সীমান্তরক্ষা ও প্রতিরোধে নিজেদের প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে নিওমার এই সুসজ্জিত বিমানঘাঁটির মাধ্যমে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- বইমেলায় ঢাবি শিক্ষক মুমিত আল রশিদের বই 'ইরানি প্রেমের গল্প : রূপ ও সৌরভ'
- স্বামী ও সন্তানকে ঘরে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্ম/হত্যা
- ঈদের তারিখ চূড়ান্ত করল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি
- সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে, যা জানা গেল
- আপত্তিকর ভিডিও বিতর্কে হাতিয়ার ইউএনওকে ওএসডি
- ফুলবাড়ীয়ায় প্রবাসীদের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ
- শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গুলি
- এককালীন অনুদান দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট
- ঢাবি ভিসির পদত্যাগ নিয়ে যা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৭ মার্চ)
- ঢাবির হলে শিক্ষার্থীর গোসলের ভিডিও ধারণ, বিইউপির ছাত্র আটক
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৪ মার্চ)
- কুৎসিত ব্যাটিংয়ে লণ্ডভণ্ড বাংলাদেশ, সিরিজে ফিরল পাকিস্তান
- তিন দেশে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন