ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাইওয়ানে সবচেয়ে বড় বেসামরিক মহড়া
তাইওয়ান তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বেসামরিক মহড়ার আয়োজন করেছে। এর প্রভাবে রাজধানী তাইপে প্রায় সারাদিন স্থবির হয়ে পড়ে।
চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন বা অনুপ্রবেশের পরিস্থিতিতে নাগরিকদের করণীয় বিষয়ে এই মহড়ায় অনুশীলন করে সাধারণ মানুষ।
‘হান কুয়াং’ নামে পরিচিত তাইওয়ানের বার্ষিক বৃহত্তম সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবেই এই বেসামরিক মহড়াটি পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে দ্বীপ রাষ্ট্রটি নিজের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মহড়ার অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা সংকেত বাজানো হয়। এ সময় বাসিন্দারা দ্রুত ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেন এবং রাস্তায় চলমান যানবাহন থামিয়ে দেওয়া হয়। কীভাবে দ্রুত শহর খালি করতে হবে সেটিও বাস্তবিক অনুশীলনের মাধ্যমে শিখানো হয় অংশগ্রহণকারীদের।
তাইওানকে শুরু থেকেই নিজেদের অঞ্চল হিসেবে দাবি করে আসছে চীন এবং ভবিষ্যতে একে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করার কথা বারবার জানিয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাইয়ের নির্বাচনের পর থেকে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। চীন তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে দেখে।
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বেসামরিক মহড়ায় অংশ নেন প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাইসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান ইনস্টিটিউট অফ তাইওয়ানের প্রধান রেমন্ড গ্রিন।
উল্লেখ্য, এই প্রতিষ্ঠানটিকে তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের ডি-ফ্যাক্টো দূতাবাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মহড়ার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন শহরে আধাঘণ্টা করে বিমান হামলার সতর্কতা সংকেত বাজানো হয়েছে। এ সময় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ না মানলে জরিমানার বিধানও ছিল। পাশাপাশি দোকান, রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা হয় এবং রাস্তায় চলমান যানবাহন থামিয়ে চালকদের নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হয়।
তাইপে শহরের স্কুল, উপাসনালয়, সাবওয়ে স্টেশন ও মহাসড়ক থেকে গণহারে লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে মহড়ার অংশ হিসেবে বাস্তবসম্মত অনুশীলন চালানো হয়। এমনকি একটি কৃত্রিম গণহত্যা পরিস্থিতির অনুশীলনও করা হয়েছে। এতে আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসা প্রদান, জরুরি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অনুশীলন চলে।
এই মহড়াকে ঘিরে তাইওয়ানের জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে প্রয়োজনীয় বলে মনে করলেও অনেকেই একে অতিরিক্ত ভীতিকর বলে মন্তব্য করছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ানে হামলা চালানোর সামরিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছেন। তবে তাইওয়ানের নাগরিকদের বড় অংশ এই আশঙ্কা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন।
তাইওয়ানের সরকারঘনিষ্ঠ গবেষণা সংস্থা, জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা গবেষণা ইনস্টিটিউট (INDSR)-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশের বেশি নাগরিক বিশ্বাস করেন আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চীন তাইওয়ানে হামলা চালাবে না।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: সরাসরি দেখা যাবে এখানে LIVE
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ফুটবল ম্যাচ, দেখুন একাদশ-দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম ভারতের ফুটবল ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোর ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ঢাবি শিক্ষককে বিয়ে করলেন দীপ্তি চৌধুরী
- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ফুটবল ম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন
- আজ রাত ৮ টায় ভারত বনাম বাংলাদেশের ফুটবল ম্যাচ, কোথায় ও যেভাবে দেখবেন?
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ
- ঢাবির এসএম হলের নতুন প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুস সালাম
- মাসিক ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম
- টাইমস হায়ার ও কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার
- নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত বাড়তে পারে? আলোচনায় দুটি প্রস্তাব