×

ঢাকা, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

অক্টোবরে বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পাবেন চাকরিজীবীরা

২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১০:০২:২০

অক্টোবরে বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পাবেন চাকরিজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কাজ সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীরা একসঙ্গে প্রায় তিন মাসের এরিয়ার বা বকেয়া বেতন তুলতে পারবেন।

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++)-এর পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে। এ জন্য নির্ধারিত পোর্টালে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি, গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী আগে পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশের নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। এসব নথির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে সঠিকভাবে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। কোনো কারণে এনআইডি না থাকলে চাকরির নথিতে থাকা তথ্য হালনাগাদ করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অনলাইনে তথ্য দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় সেগুলো বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই করবে। কোনো তথ্যে গরমিল পাওয়া গেলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। পে ফিক্সেশন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অর্থ বিভাগের ‘এসপিএফএমএস’ কর্মসূচির আওতায় বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ), জেলা ও উপজেলা হিসাব কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হলে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে নিয়মিত বেতন বিল এবং বকেয়া পাওনার হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন ও পাওনা নির্ধারণের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হবে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট তিন ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বিদ্যমান মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন সমন্বয় করা হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ওই পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে চাকরিজীবীরা পুরো নতুন মূল বেতন পাবেন। চলতি অর্থবছরে মূল বেতনের বর্ধিত অংশ পরিশোধের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতা অবশ্য ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

নতুন বেতন আদেশে পদোন্নতি ছাড়া সন্তোষজনক চাকরির আট বছর পূর্ণ হলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড এবং এর পরের ছয় বছর শেষে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে অতীতে একই পদে একাধিকবার টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড নেওয়া কর্মীদের নতুন কাঠামোয় সমন্বয় নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব জটিলতা নিরসনে কাজ করছে অর্থ বিভাগ।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একই পদে অতীতে একাধিক উচ্চতর সুবিধা নেওয়া থাকলে নতুন কাঠামোয় আর কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না। তবে একটি উচ্চতর স্কেল পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হবেন সংশ্লিষ্ট কর্মী। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এসব চাকরির ইতিহাস সঠিকভাবে যাচাই করে প্রত্যেকের নতুন বেতন ও বকেয়া পাওনার চূড়ান্ত হিসাব নিষ্পত্তি করা হবে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত