ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সবজিতে স্বস্তি, ডিম-মাছে বাড়ছে বাজারের চাপ

২০২৬ আগস্ট ০৮ ১১:৫৯:০৭

সবজিতে স্বস্তি, ডিম-মাছে বাড়ছে বাজারের চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কয়েক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির কারণে চড়া দামে বিক্রি হওয়া সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ বাড়ায় বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। কমেছে কাঁচা মরিচের দামও। প্রতি কেজি ৪০০ টাকা পর্যন্ত ওঠার পর এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। তবে সবজির দামে স্বস্তি ফিরলেও পুরো বাজারের চিত্র বদলায়নি। বরং গত দুই সপ্তাহ ধরে ডিমের দাম ঊর্ধ্বমুখী। একই সঙ্গে মাছ, মুরগি ও অন্যান্য মাংসের দামেও রয়েছে চাপ। ফলে দু-একটি পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিকভাবে বাজার খরচ কমছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মগবাজার এলাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কয়েক সপ্তাহ আগেও অনেক সবজি ১০০ থেকে ১২০ টাকার নিচে পাওয়া কঠিন ছিল। টানা বৃষ্টিতে জমির ফসল নষ্ট হওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়াকে তখন দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন বিক্রেতারা। এখন আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

বর্তমানে প্রতি কেজি বরবটি ৮০, ঝিঙা ১০০, চিচিঙ্গা ৮০, ধুন্দল ৬০, শসা ৬০ থেকে ৮০, পটোল ৬০, ঢেঁড়স ৬০, পেঁপে ৪০ এবং মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতিটি ৬০ থেকে ৮০, মুলা ৮০, চালকুমড়া ৬০, কচু ৮০ এবং কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গোল বেগুন ১০০ থেকে ১৫০, গাজর প্রায় ১০০, করলা ১০০ থেকে ১২০ এবং টমেটো ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন দোকানদারেরা। বাজারভেদে কচুর লতি ও কচুরমুখির দামও ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

কাঁচা মরিচের দাম কমায় ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ৪০০ টাকা পর্যন্ত ওঠা কাঁচা মরিচ এখন ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। ফলে কমেছে দাম।

মগবাজারের সবজি বিক্রেতা হায়দার আলী বলেন, ‘বৃষ্টির সময় ক্ষেত থেকে ঠিকমতো আসেনি সবজি। অনেক জায়গায় ফসল নষ্ট হওয়ায় কমে গিয়েছিল সরবরাহ। এখন নতুন করে সবজি আসতে শুরু করায় দামও কিছুটা কমেছে। তবে আবার টানা বৃষ্টি হলে বদলে যেতে পারে পরিস্থিতি।’

ডিমে উল্টো চিত্র

সবজির বাজারে যখন কিছুটা স্বস্তি ফিরছে, তখন ডিমের বাজারে দেখা যাচ্ছে বিপরীত চিত্র। দুই সপ্তাহ ধরে ধাপে ধাপে বেড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। বাদামি ডিমের এক ডজন ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও গত সপ্তাহে তা বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষে কোনো কোনো খুচরা দোকানে এক ডজন ডিমের দাম ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। তবে বড় বাজারগুলোয় ১৫০ টাকার আশপাশে পাওয়া যাচ্ছে।

মাছের বাজারেও চাপ

মাছের দামও সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বর্তমানে জীবিত পাঙাশ প্রতি কেজি প্রায় ২৩০, তেলাপিয়া ২৬০, মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ এবং বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, ট্যাংরা ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের কিছু সামুদ্রিক মাছের দাম ছাড়িয়েছে হাজার টাকা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

ফের দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: একদিনের ব্যবধানেই দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪... বিস্তারিত