×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজী নজরুলের এমপি পদের বিষয়ে যেভাবে সিদ্ধান্ত হবে, জানালেন স্পিকার

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৯:০৪:১৪

গাজী নজরুলের এমপি পদের বিষয়ে যেভাবে সিদ্ধান্ত হবে, জানালেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়, সেটি দেখেই তাঁর সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার তিনি এ কথা জানান। তবে শুধু দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার কারণে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ যাবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন স্পিকার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে দলটির পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। তবে এখনো গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে।

এর মধ্যে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মরিয়মের বাবা মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গাজী নজরুল রিমান্ডে আছেন। আর এক দিনের রিমান্ড শেষে তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং পদে থাকার বিভিন্ন যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড হলে এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর না পেরোলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ও পদে থাকার অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদ নিয়ে জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। তবে কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ চলে যায় না। কোনো সংসদ সদস্য নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হয়।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুলের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, এখন পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়, তাঁরা সেটি দেখার অপেক্ষায় আছেন। পুলিশের নেওয়া ব্যবস্থা দেখে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হবে এবং এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, আদালতও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে বা দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর আসন শূন্য হয়। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো সংসদ সদস্যকে দল বহিষ্কার করলে তাঁর ক্ষেত্রে কী হবে, সে বিষয়ে সংবিধানে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ও পদে থাকার যোগ্যতার মধ্যে আরও বলা হয়েছে, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড হলে এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর না পেরোলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ও পদে থাকার অযোগ্য হবেন।

একই অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো সংসদ সদস্য ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অযোগ্য হয়েছেন কি না অথবা ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে তাঁর আসন শূন্য হবে কি না এ নিয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁকে সংসদীয় কমিটিতে না রাখার জন্য সরকারি দলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে দুটি সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবে ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল। পরে জামায়াতের আপত্তির পর ওই কমিটি পুনর্গঠন করে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।

সেদিন সংসদে এ বিষয় নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংবিধান অনুযায়ী তাঁর সদস্যপদ শূন্য হয় না। তিনি নিজে পদত্যাগ না করলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হয় না।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত