×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্বকাপে কত টাকা পাচ্ছে নেইমার

২০২৬ জুলাই ১১ ১১:৫৮:০৩

বিশ্বকাপে কত টাকা পাচ্ছে নেইমার

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে সেলেসাওদের। মাঠের হতাশাজনক পারফরম্যান্স সত্ত্বেও ফিফার নির্ধারিত পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী বড় অঙ্কের অর্থ পাচ্ছে দলটি। বিশ্বকাপে ৯ম থেকে ১৬তম স্থানের মধ্যে টুর্নামেন্ট শেষ করায় ব্রাজিল পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা।

ফিফার ২০২৬ বিশ্বকাপের পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৬তম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করায় ৯ম থেকে ১৬তম স্থানের দলগুলোর জন্য নির্ধারিত অর্থই পাচ্ছে কার্লো আনচেলত্তির দল।

এবারের বিশ্বকাপের মোট পুরস্কার তহবিল ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৭০৩ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিভিন্ন দলের মধ্যে বিতরণ করা হবে। বাকি ১৬৮ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা দলগুলোর অবস্থান বা পারফরম্যান্স বিবেচনা ছাড়াই দেওয়া হবে।

পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ কোটি ১০ লাখ ডলার বা প্রায় ৬২২ কোটি টাকা। রানার্সআপ দলের জন্য বরাদ্দ ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪১৫ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাবে ৩ কোটি ডলার বা প্রায় ৩৬৬ কোটি টাকা এবং চতুর্থ স্থান পাওয়া দল পাবে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা প্রায় ৩৪২ কোটি টাকার সমান।

এ ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ৫ম থেকে ৮ম স্থানের দলগুলো পাবে ২ কোটি ডলার বা প্রায় ২৪৪ কোটি টাকা। ৯ম থেকে ১৬তম স্থানের দলগুলোর জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা। ১৭তম থেকে ৩২তম স্থানের দলগুলো পাবে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা এবং ৩৩তম থেকে ৪৮তম স্থানের দলগুলোর জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১ কোটি ডলার বা প্রায় ১২২ কোটি টাকা।

পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কারের বাইরে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দল অংশগ্রহণ ফি হিসেবে পাবে ১ কোটি ডলার বা প্রায় ১২২ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রস্তুতি ভাতা হিসেবে দেওয়া হবে ২৫ লাখ ডলার বা প্রায় ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতিনিধি দলের ভ্রমণ, লজিস্টিকস, প্রশাসনিক ব্যয় এবং অতিরিক্ত টিকিট ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য ফিফা অতিরিক্ত দলীয় অনুদান হিসেবে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি বা প্রায় ১৯৫ কোটি টাকার ব্যবস্থা রেখেছে।

হেক্সা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত শেষ ষোলোতেই থেমে যায়। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। ফলে বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। আগামী বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিলের শিরোপাখরা দাঁড়াবে ২৮ বছরে।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের লাইনআপ নিশ্চিত হওয়ার পর অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য অ্যাথলেটিক ব্রাজিলকে ১৬তম স্থানে রেখেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্লো আনচেলত্তির অধীনে প্রত্যাশিত মানের ফুটবল খেলতে পারেনি ব্রাজিল। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে তারা উল্লেখ করেছে, এই প্রতিপক্ষ এখনো ব্রাজিলের জন্য অস্বস্তির কারণ। দুই দলের পাঁচটি মুখোমুখি লড়াইয়েও একবারের জন্যও জয় পায়নি সেলেসাওরা।

নেইমারের পারফরম্যান্স নিয়েও মন্তব্য করেছে দ্য অ্যাথলেটিক। প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাচের শেষ দিকে মাঠে নেমে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি। তবে ম্যাচ শেষে গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ডের সঙ্গে তার তর্ক, মার্টিন ওডেগার্ডের সঙ্গে উত্তেজনাকর মুহূর্ত এবং শেষ বাঁশির পর কান্নার দৃশ্যই বেশি আলোচনায় আসে।

দ্য অ্যাথলেটিকের র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের ওপরে রয়েছে প্যারাগুয়ে, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কানাডা ও কেপ ভার্দের মতো দল। বিশেষ করে কেপ ভার্দের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছে সংবাদমাধ্যমটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলটি স্পেনের সঙ্গে ড্র করেছে, গ্রুপ পর্ব থেকেই উরুগুয়েকে বিদায় করেছে এবং শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দারুণ লড়াই উপহার দিয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের অবস্থানকে তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপেও একই অবস্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল সেলেসাওরা।

অন্যদিকে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফল আসে ১৯৩৪ সালে। ইতালিতে অনুষ্ঠিত সেই আসরে সরাসরি নকআউট পর্বে প্রথম ম্যাচেই স্পেনের কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় দলটি। ওই বিশ্বকাপে তারা ১৪তম স্থানে থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করেছিল।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত