×

ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের নানা উদ্যোগ: অর্থমন্ত্রী

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ২০:৪৯:১৫

জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের নানা উদ্যোগ: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ব অর্থনীতির সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আগের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা ও বিদেশে অর্থপাচারের মতো গুরুতর সমস্যা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সভায় দেশের জ্বালানি খাতের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে পূর্ণাঙ্গ কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এসব প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক দরের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে অফশোর ও অনশোর অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ উদ্যোগে কোরিয়ান, চাইনিজ ও আমেরিকান বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার গভীরতাসম্পন্ন একটি নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাসের সুবিধাসহ আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে একটি জ্বালানি হাব গড়ে তোলা হবে।

রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের জন্য দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করা হচ্ছে। এতে নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত ও দুর্নীতি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজার পুনর্গঠন, ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ শিথিলের উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আমির খসরু বলেন, হংকংয়ের পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের জন্য একটি পৃথক ইকুইটি ফান্ড গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ড খাতে বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্থনীতি স্থিতিশীল হলে তা আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে এবং পরবর্তী সময়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

আলোচনা সভায় প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে এফআইসিসিআইয়ের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত