×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড নিয়ে কনস্যুলেটের চিঠিতে যা বলা হয়েছে

২০২৬ অক্টোবর ২০ ২১:৩৭:৪৬

দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড নিয়ে কনস্যুলেটের চিঠিতে যা বলা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চার দিন পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। চিঠিতে বলা হয়েছে, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলকে কোনো তথ্য জানায়নি।

গত ১৮ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবে গত ১৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক ছিলেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের পাওয়া বন্দিদের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে নজরুলকে আটক করা হয়। পরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয় সুইটিকে। নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাঁরা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বন্দিদের তালিকার ৭ নম্বর কলামে দণ্ডিত কয়েদিদের সাজার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া থাকলেও নজরুল ও সুইটির সাজার তথ্য সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া সৌদি আরবে সাইবার আইন ও ব্যভিচারের অভিযোগে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।

জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতাধীন সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের চারিত্রিক মামলায় ৩০৬ বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব বাংলাদেশির সর্বনিম্ন এক মাস থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, সাইবার বা তথ্যপ্রযুক্তি আইনে অপরাধের দায়ে মক্কায় তিনটি পৃথক মামলায় সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থায় অনুবাদ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, সৌদি আরবের ক্রিমিনাল কোর্টসহ অন্যান্য আদালতে শুনানির সময় ‘মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহাদ’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনুবাদের সহায়তা নেওয়া হয়। এ কারণে এসব আদালতে বিচারিক কার্যক্রমে আসামির পক্ষে অনুবাদক হিসেবে মিশনের প্রতিনিধিদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে বিচার চলাকালে ওই দুই বাংলাদেশির পক্ষে দোভাষী বা আইনি প্রতিনিধি ছিলেন কি না, সে বিষয়ে চিঠিতে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

চিঠি অনুযায়ী, দুই বন্দির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে কনস্যুলেটে কোনো আবেদন করা হয়নি বা যোগাযোগ করা হয়নি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়েও সৌদি কর্তৃপক্ষ অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলকে কিছু জানায়নি।

গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানায়। এর পরদিন, ১৫ অক্টোবর, জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠায়।

পরে গত ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছেও ওই কূটনৈতিক পত্র পুনরায় দেওয়া হয়।

সর্বশেষ গত সোমবার জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেলের মো. সাখাওয়াত হোসেন সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য বাংলাদেশকে কেন জানানো হয়নি, তা জানতে চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষকে আরও একটি কূটনৈতিক পত্র দেওয়া হয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ