ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচে রেফারিং বিতর্কে মুখ খুলল ফিফা

২০২৬ জুলাই ০৯ ১৫:২৯:৩১

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচে রেফারিং বিতর্কে মুখ খুলল ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের গ্রুপ ও নকআউট পর্ব মিলিয়ে টানা ২৮ দিনের লড়াই শেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে টুর্নামেন্ট নতুন পর্বে প্রবেশ করলেও শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখনো থামেনি।

ম্যাচটিতে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং দলের স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো। তাদের অভিযোগ, ম্যাচ পরিচালনায় আর্জেন্টিনা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। এমনকি তারা ম্যাচটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলেও দাবি করেন।

তবে মিসর শিবিরের এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ফিফা। সংস্থাটির প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়ারলুইজি কলিনা স্পষ্ট জানিয়েছেন, রেফারিং নিয়ে ওঠা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং বিষয়টি ঘিরে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

ইনসাইড ফিফা ডটকমে প্রকাশিত এক পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাখ্যা দেন অভিজ্ঞ এই রেফারি। প্রতিটি ঘটনা পর্যালোচনা করে তিনি বলেন, ম্যাচে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেফারি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেননি।

মিসরের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুটি সিদ্ধান্ত। প্রথমটি ৫৮ মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোল বাতিল হওয়া। পাল্টা আক্রমণে জিকো গোল করলেও আক্রমণের সূচনায় মিসরের এক ফুটবলার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করেছিলেন। ঘটনাটি প্রায় ৮৫ মিটার দূরে ঘটলেও ভিএআরের সহায়তায় সেটি শনাক্ত করে গোল বাতিল করেন রেফারি।

অন্যদিকে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্টপেজ টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে নিজেদের ডি-বক্সে মোহামেদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের সংঘর্ষকে ফাউল হিসেবে গণ্য না করায় আপত্তি তোলে মিসর। তাদের দাবি ছিল, ওই ঘটনাটি ভিএআরে পর্যালোচনা করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে কলিনা বলেন, ‘প্রতিটি গোলের পর ভিএআর আক্রমণাত্মক বল দখলের পুরো পর্যায় (অ্যাটাকিং পজেশন ফেজ) পর্যালোচনা করে। গোল হওয়ার আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হলে এবং সেটি গোলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হলে, ভিএআর মাঠের রেফারিকে ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোল থেকে কত দূরে বা কত আগে ফাউল হয়েছে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। ফাউল মানেই ফাউল। রেফারি মাঠে সেটি দেখতে না পেলেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।’

সালাহ–আলভারেজের সংঘর্ষের প্রসঙ্গে কলিনা বলেন, ‘যদি ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করেন এবং পরে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হয়, তাহলে সেটি ফাউল হিসেবে গণ্য হয় না। ওই ম্যাচে রেফারি ও ভিএআর ঘটনাটিকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় স্পর্শ হিসেবেই বিবেচনা করেছিলেন।’

পাঁচবারের আন্তর্জাতিক বর্ষসেরা রেফারি নির্বাচিত হওয়া কলিনা রেফারিং নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গঠনমূলক আলোচনা ফুটবলের অংশ হলেও অমূলক অভিযোগ রেফারি ও তাদের পরিবারের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ম্যাচ পরিচালনায় ফিফা প্রেসিডেন্টেরও কোনো প্রভাব থাকে না।

কলিনার ভাষ্য, ‘কেউ দাবি করতে পারে না যে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো রেফারিং ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি সবসময় “ফিফা টিম ওয়ান”-এর প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেছেন এবং আমাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। ম্যাচ পরিচালনাকারীরা সৎ সিদ্ধান্ত নেন এবং খেলোয়াড় ও কোচদের মতোই সবসময় নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত