ঢাকা, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

যে কারণে জাপানের কাছে হারতে পারে ব্রাজিল

২০২৬ জুন ২৯ ২১:৩২:৩৩

যে কারণে জাপানের কাছে হারতে পারে ব্রাজিল

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও এশিয়ার পরাশক্তি জাপান। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহ্যবাহী রোজ বোল স্টেডিয়ামে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। নকআউট হওয়ায় একটিমাত্র ভুলই বিদায় নিশ্চিত করতে পারে যে কোনো দলের।

এ কারণে নিজেদের সম্ভাব্য সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করেছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

র‌্যাঙ্কিং, পরিসংখ্যান ও অতীতের রেকর্ডে এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলকে হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে জাপানের। তাই এশিয়ার দলটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। জাপান কেন ব্রাজিলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, তার কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হলো—

১. হাজিমে মোরিয়াসুর কৌশলী কাউন্টার অ্যাটাক

জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর পরিকল্পনার মূল ভিত্তি দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক। কম বল দখলে রেখেও দ্রুত প্রতিপক্ষের রক্ষণে আঘাত হানতে অভ্যস্ত তারা। জার্মানি ও স্পেনের বিপক্ষে আগের বিশ্বকাপে কম পজেশন নিয়েও জয়ের নজির গড়েছিল জাপান। শক্ত ডিফেন্সিভ ব্লক ও গতিময় উইং আক্রমণই তাদের বড় অস্ত্র।

২. ইউরোপে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের উপস্থিতি

বর্তমান জাপান দলে অধিকাংশ খেলোয়াড়ই ইউরোপের শীর্ষ লিগে নিয়মিত খেলেন। তাকেফুসা কুবো, তাকুমি মিনামিনো, রিতসু দোয়ানদের মতো ফুটবলাররা ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। ফলে ব্রাজিলের তারকাদের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা রয়েছে।

৩. এনদো-তানাকার নিরবচ্ছিন্ন প্রেসিং

মিডফিল্ডে ওয়াতারু এনদো ও আও তানাকা জাপানের বড় ভরসা। পুরো ম্যাচজুড়ে তাদের উচ্চমাত্রার প্রেসিং প্রতিপক্ষের বিল্ড-আপ নষ্ট করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এই চাপ ব্রাজিলের মাঝমাঠের জন্যও বড় পরীক্ষা হতে পারে।

৪. সেট-পিসে জাপানের কার্যকারিতা

সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গোল এসেছে কর্নার, ফ্রি-কিক ও ডেড-বল পরিস্থিতি থেকে। জুনিয়া ইতো ও তাকেফুসা কুবোর নিখুঁত ক্রসের পাশাপাশি কো ইতাকুরা ও হিরোকি ইতোর মতো ডিফেন্ডারদের হেডিং দক্ষতা তাদের বড় শক্তি। অন্যদিকে সেট-পিস থেকে গোল হজম করা ব্রাজিলের সাম্প্রতিক দুর্বলতাগুলোর একটি।

৫. দলগত ফুটবলের শক্তি

জাপানের সবচেয়ে বড় সম্পদ তাদের সমন্বিত দলগত খেলা। গোল করার জন্য তারা কোনো একক তারকার ওপর নির্ভরশীল নয়। ডিফেন্ডার থেকে বদলি খেলোয়াড়—প্রায় সবাই আক্রমণে অবদান রাখতে পারেন। ফলে নির্দিষ্ট একজনকে আটকানোর কৌশলে জাপানকে থামানো কঠিন হয়ে পড়ে।

নকআউট পর্বের এই ম্যাচে কাগজে-কলমে ফেভারিট ব্রাজিল হলেও জাপানের সংগঠিত ফুটবল, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক, সেট-পিস দক্ষতা এবং দলগত সমন্বয় ম্যাচটিকে কঠিন ও রোমাঞ্চকর করে তুলতে পারে। তাই শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো দলকেই এগিয়ে রাখা সহজ নয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত