×

ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

বিশ্বের শীর্ষ ২০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে ঢাবিকে নিতে ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা

২০২৬ জুন ২৯ ১৭:১৪:৪৬

বিশ্বের শীর্ষ ২০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে ঢাবিকে নিতে ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের শীর্ষ ২০০ একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের কাতারে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক প্ল্যান (২০২৬-২০৪৬)’ নামে ২০ বছর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন ও নৈতিক নেতৃত্বের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতিষ্ঠান হওয়া’-এই মূল দর্শনকে ভিত্তি করে প্রণীত এ পরিকল্পনা আগামী দুই দশকে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে উপাচার্য এসব কথা বলেন।

উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৫তম বর্ষকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে ২০ বছর মেয়াদি ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি একাডেমিক প্ল্যান (ডিইউএপি) (২০২৬-২০৪৬)’। এর মূল দর্শন হলো-‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন ও নৈতিক নেতৃত্বের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতিষ্ঠান হওয়া’। তিনি বলেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য পাঁচটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ‘ওনারশিপ ফেজ’-এ পরিকল্পনার প্রতি দায়বদ্ধতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এরপর ২০২৮ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ‘অ্যাক্সেলেরেশন ফেজ’-এ কাঠামোগত ও কার্যক্রমভিত্তিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা হবে। ২০৩৩ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত ‘ট্রান্সফরমেশন ফেজ’-এ শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে। ২০৩৮ থেকে ২০৪৩ সাল পর্যন্ত চলবে ‘রেনেসাঁ ফেজ’, যেখানে জ্ঞান, মূল্যবোধ ও উদ্ভাবনের পুনর্জাগরণ ঘটানো হবে। সর্বশেষ ২০৪৩ থেকে ২০৪৬ সাল পর্যন্ত ‘ইন্সপাইরেশন ফেজ’-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি অনুপ্রেরণার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এটি কোনো সাধারণ নীতিপত্র নয়; বরং আগামী দুই দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তরের একটি কৌশলগত ভিত্তি। বিস্তৃত গবেষণা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, শিল্পখাত ও নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণ এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি জানান, পরিকল্পনাটির ভিত্তি গড়ে উঠেছে ১১টি কৌশলগত স্তম্ভের ওপর। এগুলো হলো—নেতৃত্ব, গবেষণা ও উদ্ভাবন, শিক্ষা আধুনিকায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান, সরকার-শিল্প-বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক উৎকর্ষ, নৈতিক ও মানবিক ক্যাম্পাস সংস্কৃতি, অন্তর্ভুক্তি এবং জাতিগত ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ।

উপাচার্য বলেন, এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে গবেষণা হবে কেন্দ্রীয় শক্তি, শিক্ষা হবে ভবিষ্যতমুখী, প্রশাসন হবে দক্ষ এবং উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হবে।

ড. ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন, এ পরিকল্পনার বিশেষ তাৎপর্য হলো, এটি শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়; বাংলাদেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এটিকে একটি টেমপ্লেট ও অনুপ্রেরণামূলক কাঠামো হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে। ফলে এর প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী, তিন দশকেরও বেশি সময়ের একজন শিক্ষক এবং বর্তমান উপাচার্য হিসেবে আমার বিশ্বাস-আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের শীর্ষ ২০০ একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ, প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।’

উপাচার্য বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে কেবল পরিকল্পনা প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার এবং সঠিক বাস্তবায়ন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ভিশন ও মিশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন ও নৈতিক নেতৃত্বের একটি অনন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে এবং দেশের জ্ঞান, উদ্ভাবন ও মানবিক নেতৃত্বের পথপ্রদর্শক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে।

শতবর্ষেরও বেশি সময়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা স্মরণ করে উপাচার্য বলেন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা, রাষ্ট্রচিন্তা, শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীতের সেই গৌরব ও নেতৃত্বের উত্তরাধিকার ধারণ করেই ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথরেখা নির্মাণ করতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়।

ইমামুল হক প্রত্যয়

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত