ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সম্পর্কটি আর সেই জায়গায় নেই, জানিয়ে বিচ্ছেদের ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় চিকিৎসক দম্পতি ডা. সুষমা রেজা ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশাল। শনিবার (২৭ জুন) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুষমা রেজা তাদের পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, অনেক ভেবেচিন্তে এবং দীর্ঘ আত্মসমালোচনার পর তারা দুজন পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্য কোনো সূত্র থেকে নয়, বরং নিজেদের কাছ থেকেই সবাই যেন এ সংবাদ জানতে পারেন, সেই সম্মানবোধ থেকেই বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে। জীবনের নতুন অধ্যায়ে সবার দোয়া কামনাও করেন তিনি।
ডা. সুষমা রেজা লেখেন, খুব অল্প বয়সে তাদের একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল। দেখতে দেখতে প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে তারা একটি পরিবার গড়ে তুলেছেন, সন্তানদের বড় হতে দেখেছেন এবং জীবনের অসংখ্য সুখ-দুঃখ, অর্জন, সংগ্রাম ও স্মৃতির অংশীদার হয়েছেন। এসব স্মৃতি তাদের জীবনের অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও লেখেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা উপলব্ধি করেছেন, সম্পর্কটি আর সেই জায়গায় নেই, যেখান থেকে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারাও বদলেছেন, বদলেছে সম্পর্কের গতিপথ। একপর্যায়ে তারা বুঝতে পারেন, জীবনের এই পর্যায়ে শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাওয়াই দুজনের জন্য সবচেয়ে সম্মানজনক সিদ্ধান্ত।
ডা. সুষমা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি যেকোনো সম্পর্কের মতোই তাদের সম্পর্কেও ছিল আনন্দ, সংগ্রাম, সীমাবদ্ধতা এবং অসংখ্য আশীর্বাদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ তাদের জীবনের যেসব মুহূর্ত দেখেছেন, সেগুলো কখনোই নিখুঁত সম্পর্কের ছবি তুলে ধরার প্রয়াস ছিল না; বরং ছিল জীবনের বাস্তব কিছু মুহূর্ত, যা তারা আন্তরিকভাবে বেঁচেছেন, ভালোবেসেছেন এবং সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।
তিনি পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ এই পথচলায় তাদের ভালোবাসা, সাহস ও দোয়া সবসময় তাদের পাশে ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে ব্যক্তিগত ঘটনা খুব দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে উল্লেখ করে ডা. সুষমা সবার প্রতি অনুরোধ জানান, তাদের জীবনের এই অধ্যায়কে অনুমান, গুজব বা বিচার-বিশ্লেষণের বিষয়ে পরিণত না করতে। তিনি বলেন, একটি ভাইরাল খবরের আড়ালে রক্ত-মাংসের মানুষ থাকে, যারা প্রত্যেকে জীবনের অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও কঠিন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাই তাদের ব্যক্তিগত পরিসর ও মর্যাদাকে সম্মান করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ করে পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ করেন, সন্তান, বাবা-মা কিংবা ভাইবোনদের সামনে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না করতে। কারণ, এই পরিবর্তন তাদের প্রত্যেককে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে এবং তারা এখনও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
পোস্টের শেষাংশে ডা. সুষমা রেজা লেখেন, প্রায় ২০ বছরের এই অধ্যায়ের সমাপ্তি তারা পরস্পরের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা এবং শান্ত গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই টানছেন। পাশাপাশি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে সবাইকে পরিবারের জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রিয় মানুষগুলোর হাত শক্ত করে ধরে রাখতে হবে। কারণ, জীবন খুবই ভঙ্গুর; আজকের সাধারণ ও নীরব মুহূর্তগুলোই একদিন সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিতে পরিণত হতে পারে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই
- বিমান বাহিনীতে ৪৫ ক্যাটাগরিতে ৩৪২ শূন্যপদে চাকরির সুযোগ
- শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দেবে এসএসসি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, আবেদন করবেন যেভাবে
- ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপন তৎপরতার অভিযোগ, ৫৮ জন শনাক্ত
- বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার
- পরীক্ষা ছাড়া একাদশে ভর্তি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪৭ পদে নিয়োগ
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- এ টি এম আবদুল বারী ড্যানীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের অভিনন্দন
- বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টে চাকরির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে
- রঞ্জন কর্মকারের মৃ'ত্যুতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শোক প্রকাশ
- প্রথম দিনেই বাজিমাত জিতের নতুন সিনেমার
- সমকামিতার অভিযোগে ঢাবির দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
- মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেবে ডিবিএল গ্রুপ