ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
জাহানারা ইমামকে নিয়ে রাকসু নেতার মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘শহীদ জননী’ হিসেবে পরিচিত জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া তার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
শনিবার (২৭ জুন) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে জোহা লিখেন, ‘জাহান্নামের ইমামের মরণদিবস আজ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাস্তবায়ন করেছিল বিদেশি নকশা।’
পোস্টটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে অনেকে এর পক্ষে ও বিপক্ষে মতামত প্রকাশ করেন।
জোহার বক্তব্যের সমালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী ফেসবুকে লেখেন, ‘রাকসুর অপ!সংস্কৃতি সম্পাদক জোহা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বলে ফতোয়া দিয়েছে। কারণ জাহানারা ইমামই প্রথম ওদের জাতির পিতা রাজাকার কুলের শিরোমণি গোলাম আজমকে গণআদালতে ফাঁসি দিয়েছিল। এটাই আমাদের গত ৫৫ বছরের রাজনৈতিক খেসারত যে জোহার মতো যুদ্ধাপরাধীর উত্তরসূরিরা দেশের ২য় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়, শহীদের মাকে নিয়ে বাজে কথা বলার সাহস পায়।’
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খান আমানও বিষয়টির সমালোচনা করেন। তিনি এক পোস্টে লেখেন, ‘রাবিতে যারা ছাত্ররাজনীতি করে তারা খুবই আনস্মার্ট। ক্যাম্পাসে এতক্ষণ প্রতিবাদমুখর হওয়া উচিত ছিল। রাকসুর অপসংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদকের পদ বাতিলের দাবিতে রাকসুর সভাপতিকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া উচিত।’
অন্যদিকে, জোহার বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা। তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘বাংলাদেশে মব কালচারের শুরুই হয়েছে শাহবাগ থেকে। শাহবাগের একটা অন্যতম হোতা হলো জাহানারা ইমাম। এরা খুনি এবং খুনের বৈধতা উৎপাদনকারী।’
আরেক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘এ নারীর উৎপাদিত ন্যারেটিভ দিয়ে বিএনপি-জামায়াতকে রাজাকার বলা হয়েছে। নেতাকর্মীদের গুম-খুন করা হয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জায়িদ হাসান জোহা বলেন, ‘বিগত সময়ে যেই তথাকথিত ‘যুদ্ধাপরাধীর’ নামে যেই হত্যাকাণ্ড হয়েছিল, সেই গ্রাউন্ডটা জাহানারা ইমামের হাত ধরে তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশে মব কালচারের গোড়াপত্তনকারী জাহানারা ইমামকে জাহান্নামের ইমাম বলেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো শহীদের মাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করিনি। তবে এখানে কোনোভাবে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করা হয়নি। ‘শহীদের মা’ পরিচয় কারও ‘খুনি’ পরিচয় মুছে দিতে পারে না।’
উল্লেখ্য, জাহানারা ইমাম দেশের একজন প্রখ্যাত লেখিকা, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক কর্মী। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমি শহীদ হন। পরিবারের এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘শহীদ জননী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার লেখা ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নোগ্রাফি মামলায় ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়ী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)
- খণ্ডকালীন শিক্ষক নেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জানুন আবেদনপদ্ধতি
- বিইউপিতে ২৯ পদে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ
- নতুন পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন, যেভাবে বাস্তবায়ন হবে বেতন-ভাতা
- চালুর প্রথম দিনেই দুর্ঘটনায় পিংক বাস
- নোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষকের বেতন বন্ধ
- দিনে তিনবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেখার নির্দেশ
- শিক্ষকদের পদোন্নতি পারফরম্যান্স অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে দেওয়া হবে: ববি হাজ্জাজ
- জানুয়ারিতে ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন
- নারীদের চোখে পুরুষের যে ৫ শখ বেশি আকর্ষণীয়
- শুরু হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি আবেদন
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ভাইভা নিয়ে যা জানা গেল
- মেয়েরা বাস কেন চালাতে পারবে না: বর্ষা