ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
শিশু আছিয়া হত্যা মামলার হাইকোর্টের রায় পেছাল
নিজস্ব প্রতিবেদক: মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টে রায় ঘোষণার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আগামী ৩১ আগস্ট রায়ের দিন নির্ধারণ করেছেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ।
মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে মামলা
আলোচিত এ মামলায় মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ১৭ মে রায় দেন। রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে মামলার অপর তিন আসামি—নিহত শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, তার ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেন বিচারিক আদালত।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন চেয়ে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। উচ্চ আদালতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
রায় পিছিয়ে হতাশ আছিয়ার মা
হাইকোর্টের রায় আবারও পেছানোয় হতাশা প্রকাশ করেছেন আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার পর প্রায় দেড় বছর পার হয়ে গেলেও আবারও রায়ের তারিখ পিছিয়েছে।
বিচারিক আদালতে তিন আসামির খালাস নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে তার। তবে হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে বলে আশা করছেন তিনি।
যেভাবে ঘটেছিল আছিয়ার মৃত্যু
মাগুরার শ্রীপুরের বাসিন্দা ছিল শিশু আছিয়া। গত বছরের মার্চের শুরুতে মাগুরা শহরে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায় সে। সেখানেই ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি।
গত বছরের ৬ মার্চ অচেতন অবস্থায় তাকে মাগুরা আড়াইশ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সবশেষে শিশুটিকে সিএমএইচে ভর্তি করা হলে সেখানে ১৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
এর দুই দিন পর, ৮ মার্চ আছিয়ার মা চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা আসামিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। দ্রুত বিচারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচিও পালন করে।
দ্রুত শেষ হয়েছিল বিচারিক কার্যক্রম
মামলার তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ এপ্রিল মাগুরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এর ১০ দিন পর, ২৩ এপ্রিল বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রায় দুই মাসের মধ্যে ১৭ মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় ঘোষণা করেন। বিচারক এম জাহিদ হাসান রায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং অপর তিন আসামিকে খালাস দেন।
হাইকোর্টে আসে মামলার নথি
বিচারিক আদালতের রায়ের পর গত বছরের ২১ মে মামলার নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।
পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এখন আগামী ৩১ আগস্ট আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণার নতুন তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নোগ্রাফি মামলায় ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়ী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)
- খণ্ডকালীন শিক্ষক নেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জানুন আবেদনপদ্ধতি
- বিইউপিতে ২৯ পদে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ
- নতুন পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন, যেভাবে বাস্তবায়ন হবে বেতন-ভাতা
- চালুর প্রথম দিনেই দুর্ঘটনায় পিংক বাস
- নোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষকের বেতন বন্ধ
- দিনে তিনবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেখার নির্দেশ
- শিক্ষকদের পদোন্নতি পারফরম্যান্স অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে দেওয়া হবে: ববি হাজ্জাজ
- জানুয়ারিতে ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন
- নারীদের চোখে পুরুষের যে ৫ শখ বেশি আকর্ষণীয়
- শুরু হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি আবেদন
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ভাইভা নিয়ে যা জানা গেল
- মেয়েরা বাস কেন চালাতে পারবে না: বর্ষা